যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে একদল প্রভাবশালী প্রযুক্তি ধনকুবের ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে নতুন এক করপোরেট শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছেন বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক গিল ডুরান। এনপিআর-এর ‘ফ্রেশ এয়ার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার নতুন বই ‘দ্য নার্ড রাইখ: সিলিকন ভ্যালি ফ্যাসিজম অ্যান্ড দ্য ওয়ার অন ডেমোক্রেসি’ নিয়ে আলোচনা করেন। ডুরান বলেন, এই গোষ্ঠীটি বছরের পর বছর ধরে তাদের পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলে আসছে, যা এখন মার্কিন রাজনীতির মূলধারায় প্রভাব ফেলছে।
ডুরান তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, পিটার থিলসহ সিলিকন ভ্যালির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত ‘দ্য সভরেন ইন্ডিভিজুয়াল’ নামক বইটির আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। বইটি দাবি করেছিল যে, আধুনিক প্রযুক্তি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বর্তমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোকে ভেঙে ফেলবে এবং একটি নতুন ‘অভিজাত শ্রেণী’ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা নেবে। ডুরানের মতে, এসব প্রযুক্তি উদ্যোক্তারাই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে কাজ করছেন।
বইটিতে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে পিটার থিলের বিশাল আর্থিক ও কৌশলগত বিনিয়োগ রয়েছে। ডুরানের ভাষ্যমতে, ভ্যান্সসহ আরও অনেক প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব এখন এমন সব আইডিয়া নিয়ে কাজ করছেন যা গণতন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে একনায়কতান্ত্রিক শাসন বা করপোরেট রাষ্ট্রব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি কার্টিস ইয়ারভিনের তত্ত্বগুলোর কথা উল্লেখ করেন, যা সরাসরি সরকারি কাঠামো ভেঙে ফেলার বা আমলাতন্ত্র কমানোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ডুরান আরও উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি সম্রাটদের এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশে ‘ফ্রিডম সিটি’ বা নতুন নতুন স্বশাসিত অঞ্চল তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য এমন এলাকা গড়ে তোলা যেখানে প্রচলিত আইনের সীমাবদ্ধতা থাকবে না এবং যা তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সাংবাদিক ডুরান মনে করেন, এটি নিছক ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নয়, বরং মার্কিন সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাতের এক সুপরিকল্পিত রূপরেখা।