যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন তাদের বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যেমন হাই-এনার্জি লেজার এবং চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন ব্যবস্থার পরীক্ষাগার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। হোমল্যান্ড ডিফেন্স অ্যান্ড আমেরিকাস সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের সহকারী প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক ডিটলেভসন জানিয়েছেন, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই নতুন প্রযুক্তিগুলো সীমান্তে প্রয়োগ করতে চায় পেন্টাগন।
প্রকল্পের পরিধি ও গুরুত্ব
বর্তমানে রিও গ্রান্দে নদী তীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় ১০টি লাইটফিশ আনম্যান্ড সারফেস ভেসেল (ইউএসভি) বা চালকবিহীন নৌযান মোতায়েন করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই উদ্যোগ থেকে পাওয়া ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে ডিটলেভসন মেক্সিকোর উপসাগরীয় এলাকাতেও এই নৌযানগুলো মোতায়েনের কথা ভাবছেন, যা মাদক পাচার রোধে সহায়তা করতে পারে।
এছাড়া আকাশপথে চালকবিহীন ড্রোনগুলো স্বয়ংক্রিয় করার কাজ চলছে, যাতে জনবল কমিয়ে যন্ত্রের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে নজরদারি চালানো সম্ভব হয়। একইসাথে স্থলভাগে রোবটিক প্রযুক্তির ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে, যা সীমান্ত টহলে নিয়োজিত হাজার হাজার সেনাসদস্যের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
বাজেট ও আইনি চ্যালেঞ্জ
প্রতিরক্ষা সচিব জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদিত বাজেটের ওপর। বর্তমানে ২০২৭ অর্থবছর নিয়ে বাজেট আলোচনা চলমান রয়েছে। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ছাড়াও সীমান্ত এলাকায় লেজার প্রযুক্তির মতো অস্ত্র ব্যবহারে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। তবে সম্প্রতি ‘সেফার স্কাইজ অ্যাক্ট’ পাস হওয়ার ফলে সামরিক স্থাপনাগুলোতে ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি বাধা বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অনেকটাই কমেছে।
পূর্ববর্তী ভুল থেকে শিক্ষা
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এল পাসো বিমানবন্দরে লেজার প্রযুক্তির ভুল ব্যবহারের কারণে আকাশপথ সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়েছিল। মার্কিন সীমান্ত রক্ষা বাহিনী এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই ঘটনা ঘটে। ডিটলেভসন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এফএএ-এর সাথে পেন্টাগনের সমন্বয় ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং প্রযুক্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।