যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক তাদের এআই প্রযুক্তির সমালোচক ও সক্রিয় কর্মীদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক ড্যানিয়েল বোগুসলাসের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে যে, অ্যানথ্রোপিকের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটনের আগেই কর্মীদের কর্মকাণ্ড ট্র্যাক করছেন এবং এআই-বিরোধী আন্দোলনকারীদের পুলিশে ধরিয়ে দিচ্ছেন।
প্রতিবেদনের ভিত্তি ও অ্যানথ্রোপিকের অবস্থান
দ্য আমেরিকান প্রস্পেক্ট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রোপিকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায় যে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের সম্পদের আশপাশে থাকা এআই-বিরোধী আন্দোলনকারীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া ‘এন্টারপ্রাইজ ইন্টেলিজেন্স স্পেশালিস্ট’ পদের একটি বিজ্ঞপ্তিতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, সন্ত্রাসবাদ এবং সক্রিয়তার (activism) মতো বিষয়গুলোকে হুমকির তালিকায় রাখা হয়েছে।
তবে অ্যানথ্রোপিক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি তাদের স্বাভাবিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ, যা কর্মীদের সুরক্ষার জন্য করা হয়। তারা দাবি করেছে যে, কোনো প্রাক-অপরাধ (precrime) বা নজরদারি ব্যবস্থা তারা তৈরি করছে না।
আইনি জটিলতা ও গোপনীয়তা
অভিযোগ রয়েছে যে, অ্যানথ্রোপিক পুলিশকে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে যাচ্ছে। দ্য সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি পুলিশের কাছে কোনো হুমকির অকাট্য প্রমাণ না দিয়েই ব্যক্তিদের সম্পর্কে রিপোর্ট করছে। এছাড়াও, গ্রীষ্মের শুরুতে অ্যানথ্রোপিক তাদের গোপনীয়তা নীতিতে পরিবর্তন এনেছে, যার ফলে আদালতের নির্দেশ ছাড়াই ব্যবহারকারীদের কথোপকথনের তথ্য পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পথ সহজ হয়েছে।
বর্তমান প্রযুক্তি বিশ্বে এআই মডেলগুলো ব্যবহারকারীর প্রচুর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞ ও সমালোচকদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ তথ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে থাকায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে এআই-এর বিরুদ্ধে যারা সরব, তারা অ্যানথ্রোপিকের এই নজরদারি ব্যবস্থার কারণে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।