যুক্তরাজ্যের শহরগুলোতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা ভ্যাপ শপ এবং বেটিং শপের দৌরাত্ম্য কমাতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে নতুন কোনো ভ্যাপ শপ খুলতে হলে স্থানীয় কাউন্সিলের কাছ থেকে অবশ্যই পরিকল্পনার অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া, নতুন বেটিং শপ খোলার আবেদন প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে স্থানীয় কাউন্সিলের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। শহরকেন্দ্রিক ব্যবসা এলাকাগুলোর অবক্ষয় রোধ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এই উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানান, কয়েক দশকের অবক্ষয়ের কারণে যুক্তরাজ্যের অনেক শহরকেন্দ্র এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক মানুষ তাদের পরিচিত উচ্চ রাস্তাগুলোকে এখন আর চিনতেই পারছেন না। বিবিসি নিউজের ধারাবাহিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক দোকান আড়ালে অবৈধ সিগারেট, ভ্যাপ, গাঁজা ও কোকেন বিক্রির পাশাপাশি অর্থ পাচার এবং অবৈধ কর্মসংস্থানের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অপরাধমূলক এসব কর্মকাণ্ড রুখতে সরকার আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে।
পরিকল্পনার প্রধান দিকসমূহ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ই-সিগারেট বা ভ্যাপ বিক্রির প্রতিটি নতুন দোকানের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ভ্যাপ শপগুলো যাতে সাধারণ দোকান সেজে নিয়ম ফাঁকি দিতে না পারে, সেজন্য ভ্যাপ শপের সংজ্ঞাও আরও কঠোর করা হয়েছে। এছাড়া, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এমন গেমিং সেন্টার খোলার ক্ষেত্রেও এখন থেকে পরিকল্পনার অনুমোদন লাগবে। একই সঙ্গে, যেসব মিনি-মার্ট বা ভ্যাপ শপে অবৈধ তামাকজাত পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেসব দোকান ১২ মাস পর্যন্ত বন্ধ রাখার ক্ষমতা কাউন্সিলকে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
সরকারের এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে। তাদের মতে, ছোট ব্যবসার ওপর করের বোঝা না কমিয়ে কঠোর প্রবিধান আরোপ করলে শহরের দোকানগুলো আরও বেশি খালি পড়ে থাকবে। তবে হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেইনার জানিয়েছেন, স্কুলের কাছাকাছি ভ্যাপ ও জুয়ার দোকান গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং এর অনেকগুলোই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ) ধারণা করছে, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর অন্তত ১ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের অপরাধী অর্থ উচ্চ রাস্তার বিভিন্ন দোকানের মাধ্যমে পাচার হয়। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে অপরাধমূলক দোকান বন্ধ করা পুলিশের জন্য আরও সহজ হবে।