যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে গভর্নর ক্যাথি হচুল এক দোষী সাব্যস্ত অভিবাসীকে ক্ষমা করায় সুপ্রিম কোর্টে অভিবাসন সংক্রান্ত একটি বড় আইনি লড়াই ভেস্তে গেছে। দ্বিতীয় সার্কিট আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, দীর্ঘ সময় আটক অভিবাসীদের বন্ড শুনানির সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিল, কিন্তু গভর্নরের এই পদক্ষেপের ফলে মামলাটি অকার্যকর (মুট) হিসেবে গণ্য হয়েছে।
গভর্নর ক্যাথি হচুল অগাস্টের শেষের দিকে কেইসি গুয়েরেরো মারিয়ানো নামের এক ডমিনিকান নাগরিককে ক্ষমা প্রদর্শন করেন। মারিয়ানো দ্বিতীয় মাত্রার হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কট্টর বিরোধী হিসেবে পরিচিত গভর্নর হচুল ঠিক সেই সময়েই এই ক্ষমার আদেশ দেন, যখন এই মামলার সংক্ষিপ্ত সার জমা দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছিল।
ফেডারেল সলিসিটর জেনারেল জন সাওয়ার শুক্রবার বিষয়টি স্বীকার করেছেন যে, ‘জেনালো বনাম ব্ল্যাক’ মামলাটি এখন আর আইনি বিতর্কের পর্যায়ে নেই। তবে তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প কোনো উপায়ে দ্বিতীয় সার্কিটের ২০২৪ সালের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, দীর্ঘ সময় ধরে অভিবাসীদের আটক রাখলে তাদের বন্ড শুনানির সাংবিধানিক অধিকার তৈরি হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট
এই আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে ছিলেন জ্যামাইকান নাগরিক ক্যারল উইলিয়ামস ব্ল্যাক এবং মারিয়ানো। এদের মধ্যে ব্ল্যাক অন্য একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে চলে গেছেন এবং আর ফিরে আসবেন না বলে আদালতকে জানিয়েছেন, যা তার মামলাটিকে আগেই অকার্যকর করে তুলেছিল। অন্যদিকে, মারিয়ানো ২০১৫ সালে হামলার দায়ে দোষী হওয়ার পর ২০২০ সালে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্তৃক গ্রেফতার হন। কোভিড-১৯ জনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ২০২২ সালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
সমালোচনার মুখে গভর্নর
গভর্নর হচুলের এই সিদ্ধান্ত আইন বিশেষজ্ঞদের মাঝে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আইওয়ার সলিসিটর জেনারেল এরিক ওয়েসান এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, অভিবাসন আইন এড়াতে এবং সুপ্রিম কোর্টের রুলিং থামিয়ে দিতে একজন গুরুতর অপরাধীকে এভাবে ক্ষমা প্রদর্শন করা বিস্ময়কর। সাওয়ারের মতো তিনিও প্রশ্ন তুলেছেন, গভর্নররা এভাবে কতজন বিদেশি অপরাধীকে আইনি পরিণতি থেকে বাঁচাতে ক্ষমা প্রদর্শন করবেন।