ফুটবল বিশ্বের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করছে। সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বর্তমান ফরম্যাট থেকে বেরিয়ে টুর্নামেন্টে আরও ১৬টি নতুন দেশ যুক্ত করে মোট ৬৪টি দলের অংশগ্রহণের একটি প্রস্তাব নিয়ে পর্যালোচনা করছেন। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত আসর।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০৩০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত করার প্রস্তাব যাচাই করছেন।
- বর্তমান ফরম্যাটের চেয়ে নতুন এই প্রস্তাবিত মডেলে আরও ১৬টি অতিরিক্ত জাতীয় দলের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
- বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ানো ফিফার দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
- এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ফুটবলের বৈশ্বিক বিস্তার ও বাণিজ্যিক প্রসারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের কলেবর বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। বর্তমানে ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও, নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী তা ৬৪টি দেশে উন্নীত করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক টুর্নামেন্ট।
ইনফান্তিনোর এই ভাবনা মূলত বিশ্বজুড়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে সামনে রেখে করা হয়েছে। তবে ৬৪টি দলের অংশগ্রহণে টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং সময়সূচী নির্ধারণের মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে হবে ফিফাকে। ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মতে, অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়লে টুর্নামেন্টের স্থায়িত্ব বাড়বে এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজক দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হবে। ফিফা বর্তমানে এই নতুন কাঠামোর অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে।
বিশ্লেষণ
বিশ্বকাপের দলসংখ্যা বাড়ানোর পেছনে ফিফার প্রধান দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে—প্রথমত, ফুটবলের বাণিজ্যিক প্রসার এবং দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমর্থন বৃদ্ধি। গত কয়েক দশকে ফিফা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপের পরিধি বাড়িয়েছে, যা একদিকে যেমন নতুন নতুন দেশের কাছে ফুটবলের উন্মাদনা পৌঁছে দিচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে টিভি স্বত্ব ও স্পনসরশিপের মাধ্যমে আয় বাড়াতেও সাহায্য করছে।
তবে ৬৪টি দলের বিশ্বকাপ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সমালোচকদের মতে, দলের সংখ্যা অতিরিক্ত বাড়িয়ে দিলে টুর্নামেন্টের মান বা গাম্ভীর্য কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া অতিরিক্ত ম্যাচ খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ক্লাব ফুটবলের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে ফিফার এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে, তারা কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং এটিকে একটি বিশাল বিশ্বব্যাপী উৎসবে পরিণত করতে চায়, যেখানে প্রতিটি মহাদেশের আরও বেশি দেশের প্রতিনিধি থাকার সুযোগ পাবে। শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে ফিফার নির্বাহী কমিটির চূড়ান্ত ভোটাভুটি এবং আয়োজক দেশগুলোর সক্ষমতার ওপর।
সূত্র: aljazeera.com