যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশির দশকে জনপ্রিয় মিউজিক ক্যাসেটগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখা সম্ভব। লেখক ক্রিস্টিন পারসাড জানিয়েছেন, সাধারণ ধারণা অনুযায়ী একটি ক্যাসেটের স্থায়িত্বকাল প্রায় ৩০ বছর হলেও, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবেশ পেলে এগুলো ১০০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।
ক্যাসেটের আয়ুষ্কাল ও রক্ষণাবেক্ষণ
ক্যাসেট টেপের স্থায়িত্ব মূলত নির্ভর করে এটি কোথায় রাখা হয়েছে তার ওপর। অতিরিক্ত গরম, ঠান্ডা বা তাপমাত্রা পরিবর্তনের মতো পরিবেশে রাখলে টেপের ভেতরের চুম্বকীয় আবরণের লুব্রিকেন্ট শুকিয়ে যায় এবং এটি ছিঁড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ক্যাসেট টেপগুলো ৫৯ থেকে ৭৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা এবং ২৫ থেকে ৫৫ শতাংশ আর্দ্রতাযুক্ত স্থানে সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া সূর্যালোক, আর্দ্রতা, ধুলোবালি এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে এগুলো দূরে রাখা জরুরি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, ক্যাসেটগুলো ব্যবহারের সময় টেপের ভেতরের চুম্বকীয় বিন্যাস পড়ে শব্দ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ফেলে রাখলে টেপের কোটিং আঠালো হয়ে যেতে পারে, তাই মাঝে মাঝে ক্যাসেট চালানো প্রয়োজন। শোনার পর ক্যাসেটটিকে রিওয়াইন্ড বা শুরুর অবস্থানে ফিরিয়ে রাখা উচিত, এতে টেপের ওপর চাপ কম পড়ে।
ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব
স্মৃতি ধরে রাখতে বা প্রিয় প্লেলিস্টগুলো সুরক্ষিত করতে ক্যাসেট টেপগুলো ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এজন্য ক্যাসেট প্লেয়ারের সঙ্গে কম্পিউটার যুক্ত করে অডাসিটি (Audacity)-এর মতো সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফাইলগুলো রেকর্ড করা যেতে পারে। বর্তমানে অনেক সার্ভিস সেন্টারও ক্যাসেট ডিজিটালাইজ করে থাকে।
ভবিষ্যৎ ও বর্তমান পরিস্থিতি
অযত্নে রাখা ক্যাসেট মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বাড়ির চিলেকোঠায় বা আর্দ্র স্থানে কার্ডবোর্ডের বাক্সে না রেখে প্লাস্টিকের কন্টেইনারে ক্যাসেটগুলো রাখা ভালো। ভিনাইল রেকর্ড এবং আইপডের জনপ্রিয়তা ফেরায় ক্যাসেট টেপ এবং ওয়াকম্যানের চাহিদাও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। ক্যাসেট শোনার জন্য বাজারে এখনো সাশ্রয়ী মূল্যের পোর্টেবল প্লেয়ার পাওয়া যায়, যা দিয়ে পুরোনো দিনের নস্টালজিয়া উপভোগ করা সম্ভব।