যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যারের দুর্বলতা বা ভালনারেবিলিটি শনাক্তের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ম্যাট বার্গেস এবং লিলি হে নিউম্যানের তথ্য অনুযায়ী, এআই ল্যাবগুলো যখন এআই উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা করছে, তখন সহজলভ্য এআই চ্যাটবটগুলো ইতিমধ্যে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সফটওয়্যারের ত্রুটি শনাক্তের হার আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। এম্পিরিকাল সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৬৬ হাজার ৪০১টি কমন ভালনারেবিলিটিস অ্যান্ড এক্সপোজারস (সিভিই) রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় অর্ধেক।
বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এই পরিবর্তনের প্রভাব অনুভব করছে। মাইক্রোসফট চলতি মাসে রেকর্ড সংখ্যক ৯৭৪টি প্যাচ ইস্যু করেছে। এছাড়া ওরাকল এবং গুগল ক্রোমও তাদের সফটওয়্যারের ত্রুটি সারাতে অস্বাভাবিক পরিমাণ প্যাচ প্রকাশ করেছে। মজিলা জানিয়েছে, অ্যানথ্রোপিকের মাইথোস মডেল ব্যবহার করে ফায়ারফক্সের শত শত দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইয়ের মাধ্যমে ত্রুটি শনাক্ত করা সহজ হলেও তা সংশোধন করা বা প্যাচ দেওয়া মানুষের ওপর নির্ভরশীল। যেহেতু পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল বাড়ানো কঠিন, তাই সফটওয়্যার ডেভেলপার ও নিরাপত্তা দলগুলো এই ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ত্রুটি খুঁজে বের করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, বরং সময়মতো তা সংশোধন করা জরুরি। কিন্তু এআই ব্যবহারের ফলে যেভাবে ত্রুটি বেরিয়ে আসছে, তাতে প্যাচ দেওয়ার গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এআইয়ের এই দ্রুতগতিসম্পন্ন বিকাশ সাইবার অপরাধীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।