বাংলাদেশের সাভারে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সিটিটিসি একটি ভাড়া বাসা থেকে পাইপ বোমা, রাসায়নিক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ‘ছাতা বোমা’ এবং কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণের ঘটনার পর সাভারের এই অভিযানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সংশ্লিষ্টতার আলামত পাওয়ার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাভারের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যজনকে খুঁজছে পুলিশ। মূলত উগ্রবাদী মতাদর্শে যুক্ত ব্যক্তিদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কায় এই ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাগুলো
গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর বিস্ফোরক পাওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনা ঘটছে। এর এক সপ্তাহের মাথায় আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ব্যাগে প্রেশারকুকার বোমা পাওয়া যায়। এছাড়া সাভারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ এবং স্থানীয় এক ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ ১১ আগস্ট সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রচুর বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করে সিটিটিসি। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাভারের সাধাপুরে একটি মসজিদের মাঠে পাওয়া যায় শক্তিশালী প্রেশারকুকার বোমা।
সন্দেহ বনাম বাস্তবতা
অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন জানান, অতীতে অনেক ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে মনে করা হতো, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবকিছুকে সেভাবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর কারাবন্দি অনেক উগ্রবাদী ও জঙ্গি সদস্য বাইরে এসেছে, যা নতুন করে সংগঠন গড়ে তোলার ইঙ্গিত দেয়। তাই এসব ঘটনাকে নিছক নাটক না ভেবে বরং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের মধ্যে যোগসূত্র আছে কিনা, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিস্ফোরক তৈরির কৌশলের মিল খুঁজে বের করাই এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।