যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভার্জিন গ্যালাকটিক ঘোষণা করেছে যে, তাদের নতুন ‘ডেল্টা ক্লাস’ মহাকাশযানের প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত হবে। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল কোলগ্লেজিয়ার এক আর্নিংস কলে এই বিলম্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মহাকাশ পর্যটন খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাওয়া এই ফ্লাইটটি সময়মতো শুরু করতে না পারা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন।
কেন এই বিলম্ব
প্রতিষ্ঠানটির সিইও মাইকেল কোলগ্লেজিয়ার জানিয়েছেন, কোনো একটি বড় সমস্যার কারণে নয়, বরং মহাকাশযানটি নির্মাণের সময় অসংখ্য ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাপন কাজের ত্রুটির কারণে এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন যন্ত্রাংশের পরিমাপে কয়েক হাজার ভাগের এক ইঞ্চি পার্থক্য থাকার মতো সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সমাধান করতে প্রকৌশলীদের আরও সময়ের প্রয়োজন। যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি সময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকেই যানটির গ্রাউন্ড টেস্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও টিকিট বিক্রি
বাণিজ্যিক ফ্লাইট পিছিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আশাবাদী সিইও। তিনি জানান, এরই মধ্যে সাড়ে সাত লাখ ডলার মূল্যের ৫০টিরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা থেকে ৫ কোটি ডলারের বেশি আয় এসেছে। ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দ্বিতীয় একটি মহাকাশযান যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সে সময় থেকে প্রতি মাসে ১০টি করে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভার্জিন গ্যালাকটিক।
মহাকাশযানের নাম নির্বাচন
বর্তমানে নতুন এই মহাকাশযানের কোনো আনুষ্ঠানিক নাম নেই। প্রতিষ্ঠানটি জনসাধারণের জন্য একটি ভোটাভুটি শুরু করেছে। অ্যারাইজন, এক্সপ্লোরার, অ্যাসেন্ড এবং অ্যাপেইরন—এই চারটি বিকল্প থেকে একটি নাম বেছে নিতে পারবেন ভোটাররা।