যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ২০১৫ সালে বক্সিং রিংয়ে গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়া পুয়ের্তো রিকোর পেশাদার বক্সার প্রিচার্ড কোলন ৩৩ বছর বয়সে মারা গেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বাবা রিচার্ড কোলন এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে যে লড়াই চালিয়ে গেছেন, তা ক্রীড়া বিশ্বে তাকে এক অদম্য যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত করেছিল।
ঘটনার বিবরণ
২০১৫ সালে টেরেল উইলিয়ামসের বিপক্ষে লড়াইয়ের সময় প্রিচার্ড কোলন মাথার পেছনে বারবার অবৈধ ঘুষি খাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে অচেতন হয়ে পড়ে যান তিনি। পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে এবং ফোলা কমানোর জন্য অস্ত্রোপচারের পর তিনি ২২১ দিন কোমায় ছিলেন। এরপর থেকে তিনি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। হাঁটাচলা ও কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে তিনি ২৪ ঘণ্টা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।
পরিবারের ভাষ্য
ফেসবুকে আবেগঘন বার্তায় রিচার্ড কোলন জানান, তার ছেলেকে ভালো রাখতে তিনি সম্ভাব্য সবকিছু করেছেন। তাকে পুয়ের্তো রিকোতে ছুটি কাটানোর স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলেন, যা আর সম্ভব হলো না। তিনি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পরিবারের জন্য প্রার্থনা চেয়েছেন।
আইনি লড়াই ও ক্যারিয়ার
২০১৩ সালে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করা কোলন ১৬টি লড়াইয়ের সবকটিতেই অপরাজিত ছিলেন। ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সে উইলিয়ামসের বিপক্ষে সেই ম্যাচে অবৈধ ঘুষির কারণে উইলিয়ামসের পয়েন্ট কাটা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোলন নিজেই নিম্নমুখী আঘাতের জন্য পয়েন্ট হারান এবং নবম রাউন্ডে নকডাউন হন। তার কর্নার টিম ভুলবশত লড়াই শেষ হয়েছে মনে করে গ্লাভস খুলে ফেলায় তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায় কোলনের বাবা-মা রিংসাইড চিকিৎসক ও প্রমোটারদের বিরুদ্ধে ৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছিলেন, যা এখনো অমীমাংসিত।
বিশ্ব বক্সিং কমিউনিটির শোক
প্রিচার্ড কোলনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ডব্লিউবিএ (WBA)। তারা তাকে জীবন ও সহনশীলতার শিক্ষার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছে। ২০২১ সালে ডব্লিউবিসি (WBC) তাকে অনারারি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা দিয়েছিল। ডব্লিউবিসি প্রেসিডেন্ট মাওরোসিও সুলাইমান তার দীর্ঘ ১১ বছরের লড়াইয়ের প্রশংসা করে বলেন, সমর্থক ও প্রিয়জনদের ভালোবাসা নিয়ে তিনি সবসময় মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।