যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে আয়োজিত জিভিএসপিটিএস সম্মেলনে মার্কিন সেনাবাহিনীর গ্রাউন্ড ইউনিটগুলোর বিদ্যুৎ ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সেনাবাহিনীর প্রোগ্রাম অ্যাকুইজিশন এক্সিকিউটিভ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ট্রয় ডিনোমি জানিয়েছেন, বর্তমান বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটে বিদ্যুৎ সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ড্রোনের ব্যবহার, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নতুন প্রজন্মের কমান্ড পোস্ট পরিচালনার জন্য প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন, যা মেটাতে বর্তমান যানগুলো সক্ষম নয়।
বিদ্যুতের অভাবের কারণে ফিল্ড কমান্ডারদের ড্রোন মোতায়েনে সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে। মিশন অনুযায়ী ড্রোন চালানোর পরিবর্তে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে তারা নিয়মিত বিরতিতে ড্রোন সংখ্যা কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছেন।
জেনারেটরের সীমাবদ্ধতা
সেনাবাহিনীর চিফ টেকনোলজি অফিসার অ্যালেক্স মিলার জানিয়েছেন, জেনারেটর ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো এর উচ্চশব্দ এবং দৃশ্যমানতা। জেনারেটর শত্রুপক্ষের নজরদারিতে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায় এবং তাপীয় সংকেত তৈরির মাধ্যমে অবস্থানের জানান দেয়। এছাড়া সৈন্যদের ওপর অতিরিক্ত ব্যাটারির বোঝা চাপানোও কোনো কার্যকর দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয় বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
নতুন প্রযুক্তির খোঁজে
ডিনোমি জানিয়েছেন, এম১এ২ আব্রামস বা ব্র্যাডলি ফাইটিং ভেহিকলের মতো পুরনো যানের বিদ্যুৎ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নতুন প্রযুক্তি প্রয়োজন। জ্বালানি কোষ (fuel cells) ভিত্তিক প্রযুক্তির ওপর আশার কথা জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া এক্সএম৩০ এবং এম১ই৩ আব্রামসের মতো নতুন প্রজন্মের যুদ্ধযানে অধিকতর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রাখা হয়েছে।
সেনাবাহিনী এখন ব্যাটারি ও জেনারেটরের বাইরে তরল জ্বালানির বিকল্প এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য প্রতিরক্ষা শিল্পের সহায়তা চেয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন উদ্ভাবনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।