বাংলাদেশের ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর খসড়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও শঙ্কার কথা তুলে ধরেছে বিরোধী দল। বৈঠকে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ দাবি করেন, এই আইনের খসড়াটি বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার এবং কণ্ঠরোধের আইনে পরিণত হতে পারে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কমিটির আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও শফিকুল ইসলাম মাসুদ খসড়াটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, খসড়ায় গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডের যে বিধান রাখা হয়েছে, তাতে গুজব বা অপতথ্যের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নেই। তার মতে, অস্পষ্ট এই আইনের সুযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর খড়্গ নামিয়ে আনা হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের সরকারবিরোধী মতামত নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান তিনি।
সরকারের অবস্থান
বিরোধী দলের আপত্তির বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান রাজনীতিতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে গালিগালাজের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা রোধ করা জরুরি। এই অপপ্রচারের হাত থেকে সুরক্ষা দিতেই আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বৈঠকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সরকারের কোনো পদক্ষেপের কারণেই সাধারণ মানুষ যাতে নিপীড়িত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।