বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি ও ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিয়ানশি কোম্পানির দুই প্রতিনিধি এবং এক কথিত চিকিৎসককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তার পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে এই অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
শনিবার বিকেলে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার মিয়াপাড়ায় একটি ভাড়া করা ভবনে তিয়ানশি কোম্পানির কার্যক্রম চলার সময় স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ কাগজপত্র ও পণ্যের অনুমোদনের বিষয়ে অসংগতি পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে কথিত চিকিৎসক মো. হুমায়ূন কবীরকে ৪ মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া তিয়ানশি কোম্পানির প্রতিনিধি মাসুদ করিম ও আব্দুর রহমানকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে জব্দ করা বিএসটিআই অনুমোদনহীন পণ্যগুলো ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
নিজেকে ‘অল্টারনেটিভ এমবিবিএস’ চিকিৎসক দাবি করা হুমায়ূন কবীর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে তার দাবির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তার দাবি, সিভিল সার্জন তাকে মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে এই চক্রটি চীনে তৈরি পেস্ট, কফি, ডায়াবেটিসের ওষুধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি করে আসছিল। কোনো প্রকার বিএসটিআই অনুমোদন না থাকলেও পণ্যে নকল সিল ব্যবহার করা হতো। এছাড়া রোগীপ্রতি কমিশনের বিনিময়ে গ্রামাঞ্চলে এসব পণ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।