বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ছয়টি সংস্থা ও বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জাহাজটিকে ভাঙার জন্য নিরাপদ হিসেবে ছাড়পত্র দিয়েছিল সরকারি চারটি সংস্থা, একটি বেসরকারি সেফটি এজেন্সি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ড (বিএসআরবি)। গত বছরের জুলাই মাসে জাহাজটি পরিদর্শনের পর এই সনদ দেওয়া হয়েছিল।
গত ১৪ আগস্ট ওই ইয়ার্ডে কাজ করার সময় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের কবলে পড়ে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি মৃত্যুর কারণ হিসেবে এই বিষাক্ত গ্যাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অথচ গত বছরের পরিদর্শন প্রতিবেদনে জাহাজটিতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো পদার্থের উপস্থিতি উল্লেখ ছিল না। জাহাজ আমদানির সময় জমা দেওয়া বিপজ্জনক পদার্থের তালিকাতেও এই ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল।
পরিদর্শনকারী দলের সদস্যদের দাবি, তারা মূলত পেট্রোলিয়াম-জাতীয় গ্যাসের উপস্থিতি বা আগুন নির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করেন। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই জাহাজের গভীরে না গিয়ে দূর থেকে বা ডেক থেকে পরিদর্শন করা হয়। জাহাজভাঙা শিল্পের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে জাহাজের ভেতরের লুকানো বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত করার মতো আধুনিক সরঞ্জামের অভাব রয়েছে বলেও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, প্রায়ই প্রকৃত মালিকানা লুকিয়ে ‘ক্যাশ বায়ার’রা পুরনো জাহাজ নিয়ে আসে এবং আইএইচএম তালিকায় ভুল তথ্য দেয়। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এই তালিকা যথাযথ যাচাই-বাছাই না করেই আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়, যা শ্রমিকদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে দেশের জাহাজভাঙা শিল্পে দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার পর তদন্ত হলেও কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি বারবার সামনে আসছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম জানান, জাহাজ সম্পূর্ণ না ভাঙা পর্যন্ত এর গভীরে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ত পদার্থের ঝুঁকি থেকেই যায়, যা আগে থেকে পুরোপুরি নিশ্চিত করা কঠিন।