রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর হতাশ দুই দল ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড এবার বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচটি উভয় দলের জন্যই যেন এক অনাকাঙ্ক্ষিত দায়বদ্ধতা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে
- ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড।
- উভয় দলের কোচ ও খেলোয়াড়রাই এই ম্যাচটি খেলার বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
- ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম সরাসরি মন্তব্য করেছেন যে, এমন ম্যাচের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।
- টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে এসে থমকে যাওয়ায় উভয় দলেই এখন চরম হতাশা বিরাজ করছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বিশাল আয়োজনে প্রতিটি দলের চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকে শিরোপা জয় করা। সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফরা এখন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি যেন তাদের জন্য অনেকটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচটি নিয়ে নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা লুকাচ্ছেন না ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড উভয় দলের জন্যই সবচেয়ে ভালো হতো যদি এই ম্যাচটির অস্তিত্বই না থাকত। ফাইনাল খেলতে না পারার যন্ত্রণা কাটিয়ে ওঠার আগেই পুনরায় মাঠে নামাটা দুই দলের জন্যই বড় ধরনের মানসিক চ্যালেঞ্জ। তবুও নিয়ম রক্ষার এই লড়াইয়ে দুই ইউরোপীয় জায়ান্ট এখন মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষণ
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি ঐতিহাসিকভাবেই ফুটবল বিশ্বের কাছে গুরুত্ব হারিয়েছে। অনেক কোচই মনে করেন, ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ার পর খেলোয়াড়দের পুনরায় উদ্বুদ্ধ করা খুবই কঠিন। বিশেষ করে যখন দুই দলই শিরোপার দাবিদার ছিল, তখন তৃতীয় হওয়ার লড়াই কোনো বড় সান্ত্বনা নিয়ে আসে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের ম্যাচ মূলত দর্শকদের বিনোদন এবং ফিফার বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতার অংশ। তবে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক ধকলের কথা বিবেচনা করলে এই ম্যাচের উপযোগিতা নিয়ে বিতর্ক চিরকালই ছিল। ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের জন্য এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, যা তাদের টুর্নামেন্টের ব্যর্থতাকে ঢাকার বদলে বরং সেই ক্ষতকে আরও একবার মনে করিয়ে দেবে।