বাংলাদেশের ঢাকায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে বড় ধরনের বিভেদ সৃষ্টি করেছে। আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, অভ্যুত্থানের পর মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় এই ফাটল তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনের পটভূমি
নাজমুল হাসান জানান, ২০২৪ সালের ৫ জুন কোটা পুনর্বহালের রায়ের পর থেকে তারা রাজপথে সক্রিয় হন। ঢাকা কলেজ ও নীলক্ষেত এলাকাকে কেন্দ্র করে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাকে নানা হুমকি ও ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছিল। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শুরুতে আন্দোলন যখন তীব্র হয়, তখন কেবল সরকার পতনের উদ্দেশ্যেই তারা কাজ করেছেন। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মারাত্মক হামলার শিকার হওয়ার পরও তিনি দমে যাননি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
নাজমুল হাসানের মতে, জুলাই অভ্যুত্থান কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য ছিল না, বরং তা ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য। তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষ স্বস্তিতে থাকলেও রাষ্ট্র কাঠামোর প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনো আসেনি। বিশেষ করে বিচার বিভাগ, সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় এবং মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো জবাবদিহিতার আওতায় আসেনি। এছাড়া ক্যাম্পাসগুলোতে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও সংঘাতমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য, যা এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
বিভেদের কারণ
নাজমুল হাসান অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব পক্ষকে মূল্যায়ন করা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে সবকিছু কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রফেসর ইউনূস যখন মাহফুজ আলমকে আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড ঘোষণা করেন, তখন থেকেই ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্যে ফাটল ধরে। এছাড়া সরকারি চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন বা মেধাভিত্তিক নিয়োগের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় তরুণদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন।
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, শাসকরা যেন আর নাগরিকদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে না পারে। বেকার সমস্যার সমাধান এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের ত্যাগের কথা মনে রেখে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করবে—এমনটাই তার প্রত্যাশা।