জার্মানির বিজ্ঞানীরা ১৯১৭ সালে আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের প্রয়োগ নিয়ে যে মহাজাগতিক সমীকরণ তৈরি করেছিলেন, তা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত। আইনস্টাইন তখন মহাবিশ্বের স্থির অবস্থার পক্ষে ছিলেন, কিন্তু তাঁর সমীকরণ অনুযায়ী মহাবিশ্ব হয় প্রসারিত হবে অথবা সংকুচিত হবে। এই ধ্রুব সত্যকে উপেক্ষা করতে তিনি সমীকরণে একটি ‘কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট’ বা মহাজাগতিক ধ্রুবক যোগ করেন, যা পরে তিনি নিজেই নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল বলে অভিহিত করেছিলেন।
পরবর্তীতে এডউইন হাবল মহাবিশ্বের প্রসারণ আবিষ্কার করলে আইনস্টাইন ওই ধ্রুবকটি বাতিল করে দেন। কিন্তু ১৯৯৮ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এক বিস্ময়কর তথ্য পান। তারা দেখতে পান যে, মহাবিশ্বের প্রসারণ কোনোভাবেই কমছে না, বরং এটি ক্রমাগত ত্বরান্বিত হচ্ছে। এই মহাজাগতিক প্রসারণের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীরা আবার আইনস্টাইনের সেই বাতিল করা ধ্রুবকটির দিকে ফিরে তাকান।
আধুনিক মহাবিশ্বতত্ত্বের ভিত্তি হিসেবে বর্তমানে এলসিডিম (LCDM) মডেলটি সবচেয়ে স্বীকৃত। এখানে ‘ল্যামডা’ বা মহাজাগতিক ধ্রুবকটি ডার্ক এনার্জি বা অদৃশ্য শক্তি হিসেবে কাজ করে, যা মহাবিশ্বকে প্রসারিত করছে। এটি মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস থেকে শুরু করে গ্যালাক্সির গঠন পর্যন্ত অনেক জটিল প্রশ্নের সফল উত্তর দিয়েছে।
এত সফল হওয়া সত্ত্বেও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই মডেলটি সম্ভবত ত্রুটিমুক্ত নয়। মহাবিশ্বতত্ত্বের এই কাঠামোর ভেতরেই এখন নতুন করে ফাটল ধরছে, যা মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে ভবিষ্যতে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে গবেষকরা মনে করছেন।