বাংলাদেশের ঢাকার ডিআরইউ মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত খসড়া আইন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ বন্ধ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবর্তে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যস্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন, ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পার হলেও মানবাধিকার কমিশন ও গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো সংসদীয় অধিবেশনে পাস করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন খসড়া আইনে কমিশনের তদন্তের ক্ষমতা কমিয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর রিপোর্টের ওপর নির্ভরশীল করে রাখা হয়েছে, যা নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করবে। এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর মিথ্যা অভিযোগের শাস্তির ভয় দেখানো হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহীদুল আলম রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য সুশাসন জরুরি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মন্তব্য করেন যে, রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আদর্শিক মিল ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাব রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শরীফ ভূঁইয়া ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইন তখনই কার্যকর হবে যখন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকবে এবং সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তারা গুমের তদন্ত পুলিশের হাতে রাখার সমালোচনা করে একে দুর্বল ও হাস্যকর আইন বলে অভিহিত করেন। এছাড়া গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুরসহ অন্যান্য বক্তারা রাষ্ট্র সংস্কারে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।