যুক্তরাজ্যে অনলাইনে ব্যবহৃত পণ্য কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম ভিনটেড থেকে এমা নীল নামের এক নারীকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি মাত্র দুই পাউন্ড মূল্যের এক জোড়া স্যান্ডেল বিক্রির জন্য তালিকায় দিয়েছিলেন, যা ভিনটেডের এআই সিস্টেম নকল বা জাল পণ্য হিসেবে শনাক্ত করে। নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে এমা নীল বলেন, তাকে অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়েছে। ভিনটেডের এমন ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কয়েক হাজার ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তাদের দাবি, কোনো মানুষের পরিবর্তে এআই-চালিত স্বয়ংক্রিয় বার্তার মাধ্যমে তাদের সমস্যার সমাধান দেওয়া হচ্ছে।
কেন এমন হচ্ছে
ক্যাথরিন ওয়ারিলো নামে এক ফ্রিল্যান্স মার্কেটার এ বিষয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন, যেখানে চার হাজারেরও বেশি ভিনটেড ব্যবহারকারী তাদের হয়রানির কথা তুলে ধরেছেন। ওয়ারিলো দাবি করেন, প্ল্যাটফর্মটির স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে না। তিনি বলেন, কোনো পণ্যের দাম পরিবর্তন করলে বা ব্যবহৃত সাধারণ পণ্যকেও অনেক সময় জাল হিসেবে চিহ্নিত করে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পেশাদার বিক্রেতা ম্যাথিউ কনর জানান, তিনি একবার নর্থ ফেসের একটি ব্যবহৃত জ্যাকেট বিক্রির তালিকায় দেওয়ার পর জালিয়াতির অভিযোগে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে আপিলের মাধ্যমে তিনি তার অ্যাকাউন্ট ফিরে পেলেও ততক্ষণে তার কয়েক হাজার পাউন্ডের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান
নির্দিষ্ট কোনো ব্যবহারকারীর বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভিনটেড। তবে এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বাজার নিশ্চিত করতে তাদের মডারেশন টিম, ব্যবহারকারীদের রিপোর্ট এবং শনাক্তকরণ প্রযুক্তি সম্মিলিতভাবে কাজ করে। প্ল্যাটফর্মটির দাবি, যদি কোনো সদস্য মনে করেন যে তার সাথে ভুল হয়েছে, তবে তিনি আপিল করতে পারেন এবং তাদের সদস্য সহায়তা দল প্রতিটি অভিযোগ পৃথকভাবে পর্যালোচনা করে।
ভবিষ্যৎ ও পরামর্শ
গ্রাহক অধিকার বিশেষজ্ঞ হেলেন ডিউডনি বলছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এড়াতে ভিনটেডের গ্রাহক সেবায় মানুষের হস্তক্ষেপ বাড়ানো প্রয়োজন। তার মতে, ব্যবহারকারীদের উচিত আগে প্ল্যাটফর্মটির নিজস্ব আপিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ নেওয়া। দ্রুত বড় হতে গিয়ে ভিনটেড হয়তো তাদের মানবিক স্পর্শ হারিয়ে ফেলছে বলে মনে করছেন অনেক ভুক্তভোগী।