যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অক্সফোর্ডশায়ারের তিনটি স্থানীয় চিজ বা পনিরের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন যে, এগুলোর স্বাদ ও সুগন্ধ বৃদ্ধিকারী অণুজীব মানবদেহের অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড মাইক্রোবিয়াল সায়েন্সেস ইউনিটের গবেষকরা চিজের পরিপক্ক হওয়ার প্রক্রিয়ার সময় ঘটা অণুজীব সংক্রান্ত ও জৈব রাসায়নিক পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন।
গবেষক দলের প্রধান সাবরিনা লংলি জানান, চিজ তৈরির প্রক্রিয়ায় যে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটে, তা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। চিজের চর্বি ও প্রোটিনের গঠন অন্ত্রে যাওয়ার পথে ব্যাকটেরিয়াগুলোকে সুরক্ষা দেয়, যা সেগুলোকে প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, চিজের মধ্যে থাকা স্ট্রেপটোকক্কাস থার্মোফিলাস এবং ল্যাকটোকক্কাস ল্যাকটিস নামক ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের উপকারী অণুজীবের ভারসাম্য বজায় রাখে। এর মধ্যে কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রোপিওনিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা প্রদাহ কমানো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
পনিরের বাইরের স্তরে থাকা পেনিসিলিয়াম ক্যান্ডিডাম নামক ছত্রাক ডায়েটারি ফাইবার বা প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে, যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া পনির পরিপক্ক হওয়ার সময় এতে থাকা ল্যাকটোজের পরিমাণ প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়, যা ল্যাকটোজ হজমে সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের জন্য সুবিধাজনক।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ফলাফলগুলো আশাব্যঞ্জক হলেও মানুষের অন্ত্রে এই ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বুঝতে আরও বিস্তারিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রয়োজন রয়েছে।