যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াকে ক্যানসার ধ্বংসকারী ক্ষুদ্র কারখানায় রূপান্তর করে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। গবেষণার প্রধান রালফ উইচসেলবাম জানান, এই পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়া সরাসরি ক্যানসার টিউমারে প্রবেশ করে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে। এই আবিষ্কার অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের মতো জটিল রোগ মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গবেষণা পদ্ধতি
গবেষক দল ‘বিফিডোব্যাকটেরিয়াম লংগাম’ নামক অন্ত্রের একটি পরিচিত প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াকে জেনেটিক প্রকৌশলের মাধ্যমে নতুন রূপ দিয়েছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিফিডোসামআইএল-২’। এই ব্যাকটেরিয়া যখন শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়, তখন এটি অক্সিজেনের অভাব রয়েছে এমন জায়গা বা টিউমার খুঁজে বের করে সেখানে আশ্রয় নেয়। এরপর এটি টিউমারের ভেতরেই ইন্টারলিউকিন-২ নামক একটি প্রোটিন তৈরি করে, যা শরীরের ক্যানসার-বিরোধী টি-কোষগুলোকে সক্রিয় করে তোলে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার চিকিৎসায় বড় বাধা হলো টিউমারের চারপাশের পরিবেশ, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আক্রমণ করতে বাধা দেয়। এই গবেষণায় দেখা গেছে, বিফিডোসামআইএল-২ ব্যাকটেরিয়া টিউমারের পরিবেশকে পরিবর্তন করে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ধীর করে দেয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, এই ব্যাকটেরিয়া চিকিৎসার সঙ্গে প্রচলিত কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা ইমিউনোথেরাপি যোগ করলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মার্ক মিমি জানান, ব্যাকটেরিয়াটি টিউমারের ভেতরেই ওষুধ উৎপাদন করায় শরীরের অন্য কোনো অঙ্গে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি কম। তবে এটি এখনো মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হয়নি। ভবিষ্যতে এর দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা এবং কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। গবেষকদের এই অনন্য প্রয়াসটি সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।