যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা বা ব্যবসা-বাণিজ্য প্রদানকারী যেকোনো দেশের ওপর ভয়াবহ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে বড় হাতের অক্ষরে লিখেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি বা শাস্তির ধরণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ সোমবার শেষ হওয়ার পরপরই এই ঘোষণা এল।
ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে অর্থনৈতিক ডি-ডে হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি কোনো মাধ্যমকে যারা সহযোগিতা করবে, তাদেরই চরম অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি তেল চোরাচালান, নগদ অর্থ লেনদেন এবং শেল কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রসীমায় পড়ার পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন বাহিনীকে কোনো সহায়তা দিলে তা আঁতাত হিসেবে গণ্য হবে।
চীনকে সরাসরি উল্লেখ না করা হলেও, দেশটি ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়ায় তাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন চীনের শানদং প্রদেশের বেশ কয়েকটি শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যার প্রতিবাদ জানিয়েছিল বেইজিং।
উল্লেখ্য, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইরান সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প সম্প্রতি ওমানকে হুমকি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রবাহিত হওয়ায় এই সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে মার্কিন ভোটারদের চাপের মুখে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।