দক্ষিণ আমেরিকার প্রাচীন জলাশয়ে প্রায় এক কোটি বছর আগেকার বাস্তুতন্ত্রে ২৩ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল কুমির ‘পুরুসরাস নিভেন্সিস’ খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে অবস্থান করত বলে জানিয়েছেন হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। গবেষণায় উঠে এসেছে, সেই সময়কার ট্রপিক্যাল বাস্তুতন্ত্রে স্তন্যপায়ী শিকারিদের তুলনায় কুমিররা অনেক বেশি প্রভাবশালী ছিল।
মিয়োসিন যুগে দক্ষিণ আমেরিকার একটি বড় অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল বিশাল হ্রদ। সেখানে জায়ান্ট কচ্ছপ ও কুমিরের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শিকারি প্রাণীর বিচরণ ছিল। সেই সময়কার শিকারিদের তালিকায় ছিল অ্যানাকোন্ডা, সাবের-টুথ স্তন্যপায়ী প্রাণী, উড়তে অক্ষম ‘টেরর বার্ড’ এবং সেবেসিড নামক স্থলচর কুমির।
হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টডক্টরাল গবেষক অস্কার উইলসন জানান, তৎকালীন সময়ে প্রচুর শিকারি প্রাণী থাকলেও কুমিররা বড় আকারের শিকার ধরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। সাত মিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের পুরুসরাস নিভেন্সিস বড় ধরনের তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখত বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।
গবেষণাটিতে ১০.৫ মিলিয়ন থেকে ১৬ মিলিয়ন বছর আগের জীবাশ্ম পরীক্ষা করা হয়েছে। তৃণভোজী প্রাণীদের হাড়ের ওপর থাকা দাঁতের দাগ বিশ্লেষণ করে এই শিকারের প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শুধু অনুমানের ওপর ভিত্তি না করে সরাসরি হাড়ের ওপর প্রাপ্ত এই চিহ্নের মাধ্যমে প্রাচীন শিকারি ও শিকারের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। জার্নাল অফ ভার্টিব্রেট প্যালিওন্টোলজিতে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।