যুক্তরাজ্যের এইচএমআরসি বা সরকারি কর কর্তৃপক্ষ দেশটির নাগরিকদের অবসরের পর প্রাপ্তব্য পেনশনের পরিমাণ যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে রাষ্ট্রীয় পেনশনের পরিমাণ বছরে ১৩ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি জরিপ অনুযায়ী, এখনো প্রতি আটজন কর্মজীবীর মধ্যে একজন তাদের সম্ভাব্য পেনশন সম্পর্কে জানেন না।
বর্তমানে পেনশনের হার
২০১৬ সালের এপ্রিলের পর অবসর গ্রহণকারীদের জন্য ফ্ল্যাট-রেট রাষ্ট্রীয় পেনশন সপ্তাহে ২৪১.৩০ পাউন্ড বা বছরে ১২,৫৪৭.৬০ পাউন্ড। অন্যদিকে, ২০১৬ সালের এপ্রিলের আগের অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বেসিক স্টেট পেনশন সপ্তাহে ১৮৪.৯০ পাউন্ড বা বছরে ৯,৬১৪.৮০ পাউন্ড। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর মূল্যস্ফীতি অথবা মজুরি বৃদ্ধির হার অনুযায়ী এই পেনশনের অঙ্ক সমন্বয় করা হয়। আগামী এপ্রিলে এই পেনশনের পরিমাণ ১৩ হাজার পাউন্ড অতিক্রম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যোগ্যতা ও পেনশনের অঙ্ক বৃদ্ধি
পূর্ণাঙ্গ পেনশন পাওয়ার জন্য একজন কর্মীকে সাধারণত ৩৫ বছর ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স (এনআই) অবদান রাখতে হয়। যারা বিদেশে ছিলেন কিংবা সন্তান বা পরিবারের যত্ন নেওয়ার কারণে কর্মবিরতিতে ছিলেন, তারা নির্দিষ্ট শর্তে এনআই ক্রেডিট পেতে পারেন। এছাড়া, স্বেচ্ছায় অবদানের মাধ্যমে পেনশনের হিসেব বাড়ানো সম্ভব। তবে এপ্রিল ২০২৫ থেকে শুধুমাত্র গত ছয় বছরের বকেয়া অবদানের সুযোগ থাকছে।
যাচাই করার পদ্ধতি
নাগরিকরা এইচএমআরসি-র অ্যাপ ডাউনলোড করে অথবা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে তাদের পেনশনের পূর্বাভাস দেখতে পারেন। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ফটো আইডি ব্যবহার করতে হবে। এইচএমআরসি-র চিফ কাস্টমার অফিসার মার্টল লয়েড জানান, অবসরের সময় অনেক দূরে মনে হলেও সবাইকে এখনই তাদের প্রাপ্য পেনশনের খোঁজ নেওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করেছেন যে, ভুয়া ইমেইল বা টেক্সট মেসেজের লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে কারণ সেগুলো জালিয়াতি হতে পারে। সাধারণ তথ্য ও সহায়তার জন্য সরকার অনুমোদিত মানি হেল্পার ওয়েবসাইটের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।