বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ জানান, নিহত বুলবুল আহমেদ ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা পশ্চিম শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সালেহনগর এলাকায় বুলবুল আহমেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত বুলবুল শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট
মুফতি মাছুম বিল্লাহ জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তিনি একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় স্থানীয় ‘কাটা সিফাত’ ও তার বাহিনীর সদস্যদের আসামি করা হয়েছিল। মামলার জের ধরেই সিফাত বাহিনী তার ওপর এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। এর আগেও একই বাহিনী তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে জানা গেছে।
পুলিশের বক্তব্য
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে পুলিশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শেখ সিফাত শাহী মসজিদ এলাকার বাসিন্দা শেখ শাহীনের ছেলে। সিফাতের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে সে এলাকায় আবারও তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।