যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির (এলএলএনএল) একদল গবেষক হীরাকে নেপচুন ও ইউরেনাস গ্রহের চেয়েও বেশি চাপে সংকুচিত করে এর গলন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন, যা প্রায় ২০ বছর ধরে চলা বৈজ্ঞানিক বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে। গবেষক মারিয়াস মিলট জানান, পরীক্ষাগারে হীরাকে সূর্যের পৃষ্ঠের চেয়েও উত্তপ্ত এবং গ্রহের কেন্দ্রের চেয়েও বেশি চাপে রেখে এর পারমাণবিক গঠন ও ঘনত্ব পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা হীরার গলন তাপমাত্রা এবং উচ্চ চাপে এর আচরণ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন। ল্যাবরেটরির পুরোনো পরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল যে হীরা গলে যাওয়ার সময় আরও ঘন হয়ে যায়, যা সাধারণ পদার্থের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক। এর ফলে তাত্ত্বিক মডেল ও পরীক্ষামূলক ফলাফলের মধ্যে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পার্থক্য দেখা দিয়েছিল। বর্তমান গবেষণায় লেজার-চালিত ডাইনামিক কম্প্রেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে এক্স-রে ডিফ্রাকশন ব্যবহার করে এই অমিল দূর করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচণ্ড চাপের মুখেও হীরা তার স্ফটিক কাঠামো পরিবর্তন না করে সরাসরি তরল কার্বনে পরিণত হয়। এই নতুন তথ্য ফিউশন শক্তি গবেষণায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, হীরার ক্যাপসুলের ওপর প্রযুক্ত প্রাথমিক শক ওয়েভ কিছুটা ধীরগতির হলে ফিউশন জ্বালানির সংকোচন ক্ষমতা বাড়বে, যা থেকে বর্তমানের চেয়ে তিন গুণ বেশি শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে।
এই আবিষ্কার নেপচুন ও ইউরেনাসের মতো বরফ দানব গ্রহগুলোর অভ্যন্তরীণ রহস্য উন্মোচনেও নতুন পথ দেখাবে। গ্রহগুলোর গভীরে যে ‘হীরার বৃষ্টি’ হওয়ার ধারণা প্রচলিত আছে, তার সঠিক মডেল তৈরির জন্য এই গবেষণার ফলাফল একটি মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। পরবর্তী ধাপে গবেষকরা একাধিক শক ওয়েভের মাধ্যমে হীরার স্থায়িত্ব এবং ফিউশন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে এর আচরণ নিয়ে আরও গভীর পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করছেন।