যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পেন্টাগনের উপ-প্রতিরক্ষা সচিব স্টিভ ফেইনবার্গ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির ব্যয় ও সরবরাহকারীদের মূল্য নির্ধারণী তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়াতে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও তাদের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত এই তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে পেন্টাগন ঠিকাদারদের মুনাফার হার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে চায়।
ফেইনবার্গের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ কোটি ডলার বা তার বেশি মূল্যের পণ্য ও সেবার চুক্তির ক্ষেত্রে পুরো সরবরাহ চেইন জুড়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি পণ্যের ধরণ অনুযায়ী বাণিজ্যিক অনুশীলনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য ও যৌক্তিক মুনাফার হার নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একটি সফটওয়্যার টুল ব্যবহার করা, যা পেন্টাগনকে সরাসরি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত করবে। এটি এপিআই (এপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঠিকাদারের এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং বা আর্থিক ব্যবস্থা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যয়ের তথ্য সংগ্রহ করবে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্পের সাথে জড়িত সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মতে, এই নিয়ম নতুন কোম্পানিগুলোর জন্য প্রতিরক্ষা খাতে কাজ করা কঠিন করে তুলবে এবং প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা দীর্ঘায়িত করবে। তাদের আশঙ্কা, এটি উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করবে।
পেন্টাগনের মতে, বর্তমানে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যয়ের রিপোর্টগুলো নিয়মিতভাবে জমা পড়ছে না। হাজার হাজার রিপোর্ট বকেয়া থাকায় কোন প্রকল্পগুলো প্রকৃত মূল্য প্রদান করছে বা কোনটিতে সমন্বয়ের প্রয়োজন, তা নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। নতুন এই প্রক্রিয়ায় আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বকেয়া রিপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চুক্তির গুণমান মূল্যায়নে এই তথ্য ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে ঠিকাদাররা কর দাখিলের মতো স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য পেন্টাগনকে প্রদান করতে পারবে। তবে এই বিপুল পরিমাণ উপাত্ত বিশ্লেষণের জন্য পেন্টাগনকে দক্ষ জনবল নিয়োগ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।