যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস মহাকাশ গবেষণায় নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য দেশটিতে মহাকাশ অভিযানের সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন নীতি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে তিনটি করে রকেট উৎক্ষেপণ বা মহাকাশযান পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মহাকাশে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই লক্ষ্য অর্জনে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে মহাকাশ অবকাঠামো সম্প্রসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন লঞ্চপ্যাড তৈরি, সামরিক রেঞ্জ বাড়ানো, আকাশপথের করিডোর বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। এসব কাজে বেসরকারি বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর সহায়তা নেওয়ার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
মহাকাশ এখন দেশটির অর্থনৈতিক অবকাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। জিপিএস, আবহাওয়া পূর্বাভাস, ইন্টারনেট সুবিধা এবং সামরিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলো স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। দ্রুত স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও প্রয়োজনে তা প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা অর্জিত হলে এসব সেবার নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে।
চীনের মহাকাশ কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে চলায় যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে। পেন্টাগনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন নিজস্ব লঞ্চ সাইট বাড়ানোর পাশাপাশি ইন্টারনেট ও নজরদারির জন্য প্রচুর স্যাটেলাইট মোতায়েন করেছে। ভবিষ্যতে সংঘাতের পরিস্থিতিতে চীন মার্কিন স্যাটেলাইটগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র বা সাইবার হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্যাটেলাইট দ্রুত প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা অর্জনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ওয়াশিংটন।
নতুন আদেশে নাসা এবং পরিবহন বিভাগকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পথে থাকা বাধাগুলো চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া রকেট উৎক্ষেপণের হার বাড়লে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য আকাশপথের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সমন্বয়ের পরিকল্পনা তৈরি করতে ১৮০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।