যুক্তরাষ্ট্রের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এক গবেষণায় দেখেছেন, মাত্র তিন মিনিটের স্প্রিন্টিং বা দ্রুত দৌড়ানো শরীরের রক্তপ্রবাহে যে আণবিক পরিবর্তন ঘটায়, তা ৯০ মিনিটের মাঝারি ধরনের ব্যায়ামে ঘটে না। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ সেকেন্ডের ছয়টি স্প্রিন্ট রক্তে পরিমাপযোগ্য প্রোটিনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বদলে ফেলে। বিপরীতে, ৯০ মিনিটের একটানা মাঝারি সাইক্লিংয়ে এই পরিবর্তন ছিল এক শতাংশেরও কম।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, স্প্রিন্টিং রক্তে ২০০টিরও বেশি মেটাবোলাইটের পরিবর্তন ঘটায়। এছাড়া এটি রক্তনালির বৃদ্ধি, টিস্যু পুনর্গঠন এবং হরমোন সিগন্যালিংয়ের সঙ্গে জড়িত প্রোটিনের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। গবেষক লুক ওলসেনের মতে, ব্যায়ামের তীব্রতা শরীরের অঙ্গগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে।
গবেষকরা যুক্তরাজ্য বায়োব্যাংকের ৫৩ হাজার অংশগ্রহণকারীর স্বাস্থ্য তথ্যের সঙ্গে এই প্রোটিনগুলোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। এতে দেখা গেছে, স্প্রিন্টিংয়ের প্রভাবে পরিবর্তিত প্রোটিনগুলোর সঙ্গে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি হ্রাসের সম্পর্ক রয়েছে। ৩২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন স্প্রিন্টিংয়ের ফলে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়, যেখানে মাঝারি ব্যায়ামে মাত্র তিনটি প্রোটিনে পরিবর্তন দেখা গেছে।
গবেষণাটির নেতৃত্বদানকারী পল কোহেন বলেন, কয়েক মিনিটের উচ্চমাত্রার ব্যায়াম শরীরের ওপর যে তাৎপর্যপূর্ণ আণবিক প্রভাব ফেলে তা দীর্ঘমেয়াদেও কার্যকর থাকে। এটি শরীরের কেবল সাময়িক চাপের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং তীব্র ব্যায়ামের নিজস্ব একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য। এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, শরীরের অভ্যন্তরীণ কোষ ও টিস্যুগুলো ব্যায়ামের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সাড়া দেয়।