যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্টেন ভিউতে অনুষ্ঠিত ‘মেড বাই গুগল’ ইভেন্টে গুগল তাদের নতুন ফাইন্ডার ট্যাগ ‘পিক্সেল ট্যাগ’ উন্মোচন করেছে। নতুন এই ডিভাইসটি ব্লুটুথ চ্যানেল সাউন্ডিং এবং আল্ট্রা ওয়াইডব্যান্ড (UWB) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে আরও নির্ভুল ফলাফল দিতে সক্ষম। অ্যান্ড্রয়েড ৯ বা তার পরবর্তী সংস্করণের যেকোনো স্মার্টফোনের সাথে এটি ব্যবহার করা যাবে। ২৯ ডলার মূল্যের এই ডিভাইসটিতে ব্যবহারকারী নিজেই ব্যাটারি পরিবর্তন করতে পারবেন এবং এতে আইপি৬৭ রেটিংয়ের পানি ও ধুলো নিরোধক সুবিধা রয়েছে।
প্রযুক্তিগত সুবিধা
পিক্সেল ট্যাগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ব্লুটুথ চ্যানেল সাউন্ডিং প্রযুক্তি। অ্যাপলের এয়ারট্যাগ মূলত ব্লুটুথ লো এনার্জি (BLE) এবং আরএসএসআই সংকেত ব্যবহার করে কাজ করে, যা অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, গুগল ফেইজ-বেসড রেঞ্জিং (PBR) প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এটি দুই ডিভাইসের মধ্যে দূরত্ব নির্ধারণে অনেক বেশি নিখুঁত। এছাড়া এটি ব্লুটুথ লো এনার্জি থেকে বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাজারের অন্যান্য ট্র্যাকার যেমন অ্যাপল এয়ারট্যাগ বা স্যামসাং গ্যালাক্সি স্মার্টট্যাগ২-এর তুলনায় গুগল পিক্সেল ট্যাগের চ্যানেল সাউন্ডিং প্রযুক্তি একে এগিয়ে রাখবে। এটি গুগল ফাইন্ড মাই ডিভাইস নেটওয়ার্কের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না থেকেও ডিভাইস শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া ইউডব্লিউবি (UWB) প্রযুক্তি কেবল প্রয়োজন হলেই সক্রিয় হয়, যা ব্যাটারির স্থায়িত্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা
পিক্সেল ট্যাগ শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য তৈরি করা হয়েছে, তাই আইফোন ব্যবহারকারীরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া পিক্সেল ট্যাগের পূর্ণ সুবিধা পাওয়ার জন্য স্মার্টফোনে ইউডব্লিউবি চিপ এবং ব্লুটুথ ৬.০ স্ট্যান্ডার্ড সমর্থিত হতে হবে, যা বর্তমানে কেবল প্রিমিয়াম পিক্সেল ফোনগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। যেসব ফোনে এই সুবিধা নেই, সেগুলোতে ট্র্যাকিং সক্ষমতা কিছুটা সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।