চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে শুরু হওয়া বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে মানবসদৃশ বা হিউম্যানয়েড রোবটগুলো তাদের অসামান্য গতির প্রমাণ দিয়েছে। উদ্বোধনী আসরে অংশ নেওয়া রোবটগুলো বিশ্বের দ্রুততম অ্যাথলেট উসাইন বোল্টের ১০০ মিটার দৌড়ের রেকর্ড ভেঙেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে রোবটের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বাস্তব কাজের দক্ষতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের এই প্রতিযোগিতায় ক্রীড়াসুলভ ইভেন্টের পাশাপাশি সিমুলেটেড কারখানা, রেস্তোরাঁ ও জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় রোবটের দক্ষতা প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মোট ৫১টি ইভেন্টের মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি প্রতিযোগিতায় রোবটগুলোকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে হচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিযোগিতার তীব্রতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে রোবোটিকস খাতের বিনিয়োগকারী শু ছিয়াওশেং জানান, রোবটের ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা ও তাপনিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ পড়ছে। তিনি আরও বলেন, চীনের শিল্প খাতের উন্নয়নে রোবটের এই সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিযোগিতায় দৌড় ও ভারোত্তোলনের মতো ইভেন্টে রেকর্ড গড়লেও, বাস্তব জগতের সূক্ষ্ম কাজ নিয়ে উদ্বেগের জায়গা রয়ে গেছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক তার-সংযোগ, মালামাল প্যাকেটজাতকরণ বা কোনো যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর মতো কাজে রোবট কতটা নিখুঁত হতে পারবে, তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
লুমোস রোবোটিকসের প্রধান নির্বাহী ইউ চাও বলেন, বাস্তব জগতের কাজের শেষ ধাপগুলোতে রোবট সফল হলেই এর প্রকৃত মূল্য তৈরি হবে। শুধু দৌড়ানো বা লাফানো রোবটের কার্যকারিতা বাড়ায় না। তার মতে, রোবট কোনো বস্তু সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে কি না এবং মানুষের সাহায্য ছাড়া ভুল শুধরাতে পারে কি না, তা যাচাই করাই এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য।
জিরোথ রোবোটিকসের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হুয়া রং জানান, প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পরই আসল পরীক্ষা শুরু হবে। রোবটটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের পর তা ব্যবহারকারীদের সমস্যা কতটুকু সমাধান করতে পারছে, সেটাই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়।