ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রচারণায় বারবার যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, দ্বিতীয় মেয়াদে তার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সংশয়। বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কেবল আমেরিকার জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় নিজেকে যুদ্ধবিরোধী হিসেবে তুলে ধরে বিশ্বব্যাপী সংঘাত কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
- বর্তমানে ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
- বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি নতুন কোনো সামরিক বা অর্থনৈতিক সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।
- তার এই নতুন উদ্যোগগুলো সাবেক রিপাবলিকান পররাষ্ট্রনীতির সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নির্বাচনে লড়ছিলেন, তখন তার অন্যতম প্রধান স্লোগান ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তিনি দাবি করেছিলেন যে, তার নেতৃত্বে আমেরিকা কোনো নতুন যুদ্ধে জড়াবে না এবং বিদ্যমান সংঘাতগুলোর দ্রুত সমাধান করবেন। তবে ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা এখন বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী পররাষ্ট্রনীতির কথা বলছেন, অন্যদিকে তার অতি জাতীয়তাবাদী অবস্থান নতুন কোনো আঞ্চলিক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ট্রাম্পের ‘শান্তি’র সংজ্ঞা মূলত আমেরিকার স্বার্থ রক্ষার ওপর নির্ভরশীল, যা অনেক ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোর জন্য যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তার এই নীতিগত অস্পষ্টতা বিশ্বনেতাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষণ
ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি মূলত ‘লেনদেনমূলক’ বা ট্রানজেকশনাল। তিনি আদর্শিক লড়াইয়ের চেয়ে চুক্তির ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালনা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই কৌশলের বড় দুর্বলতা হলো, দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার চেয়ে তাৎক্ষণিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা আন্তর্জাতিক মিত্রতায় ফাটল ধরাতে পারে।
যদি ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সামরিক ব্যয় কমাতে গিয়ে বিশ্বব্যাপী মার্কিন নিরাপত্তা ছাতা গুটিয়ে নেন, তবে চীন, রাশিয়া এবং ইরানের মতো দেশগুলো আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। আবার বিপরীতক্রমে, তিনি যদি তার ক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে কঠোর সামরিক অবস্থান নেন, তবে তা বিশ্বের জন্য ভয়াবহ পরিণতির কারণ হবে। তাই প্রশ্নটি কেবল ‘যুদ্ধ কি শুরু হবে?’ তা নয়, বরং ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে তিনি যে নীতি গ্রহণ করবেন, তা বিশ্বকে নতুন কোনো ধ্বংসাত্মক সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে কি না?’ এটাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।
সূত্র: news.sky.com