বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার আসামি রাকিবুল হাসানকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এই আদেশ দেন। মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক আসামিদের শনাক্ত করার স্বার্থে এই নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হুদা আসামিকে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, আসামির অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে রিমান্ডের পরিবর্তে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুনানির সময় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানের ভাগনির সঙ্গে এমপির সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওবায়দুর রহমান এই সম্পর্কের বিরোধিতা করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এমপি ও ওই তরুণীর কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওবায়দুর রহমানকে সন্দেহ করা হয়। এই সন্দেহের জেরে গত ১৪ জুলাই এমপির নির্দেশে ওবায়দুর রহমানের ওপর হামলা চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী ওবায়দুর রহমান তার এজাহারে জানান, আমিনুর রহমান কৌশলে তাকে বাসার ভেতরে ডেকে নিয়ে মারধর করেন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এসময় তার মা ও বোনের চিৎকারে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হামলার পর থেকেই তিনি প্রাণনাশের হুমকির মুখে আত্মগোপনে আছেন।
এ ঘটনায় এর আগে আমিনুর রহমান নামের আরেক আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছিলেন। তবে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে এবং তার সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে।