যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চালকবিহীন রোবট্যাক্সির সংখ্যা বাড়ছে, তবে এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক ও আইনি লড়াই। বর্তমানে এই প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিরাপত্তার মানদণ্ড নির্ধারণ নিয়ে নীতিনির্ধারক, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
নিউ ইয়র্কে গভর্নর ক্যাথি হাচুল এই বছর চালকবিহীন রোবট্যাক্সি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ট্যাক্সি ড্রাইভার, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং স্থানীয় আইনপ্রণেতাদের প্রবল বিরোধিতার মুখে সেখানে এই সেবা বর্তমানে অবৈধ রাখা হয়েছে। একইভাবে ওয়াশিংটন ডিসিতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বাণিজ্যিক রোবট্যাক্সি অনুমোদনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আইনপ্রণেতারা রোবট্যাক্সির সংখ্যা সীমিত করা এবং মাইল প্রতি ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
সান ফ্রান্সিসকোয় রোবট্যাক্সির সমর্থক মেয়র ড্যানিয়েল লুরি এখন কঠোর নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন। জরুরি অবস্থার সময় যানজট সৃষ্টিসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় পুলিশ এখন ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ দিতে পারছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নর্থ-হাইভওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও এবিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পুলিশের জরুরি সংকেত বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং উদ্ধারকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার কারণে এসব যানবাহনকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যেও স্থানীয় সরকারগুলো তাদের রাস্তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলছে, এই প্রযুক্তি কর্মসংস্থানের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করছে। টিমস্টার্স ইউনিয়ন জানায়, এর ফলে শুধু রাইডশেয়ার চালক নয়, বরং ট্রাক ও ডেলিভারি চালকদের বড় একটি অংশ হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে, ওয়েমো (Waymo) ও জুক্স (Zoox)-এর মতো কোম্পানিগুলো বলছে, তারা বিধিনিষেধ মানতে প্রস্তুত এবং প্রযুক্তির নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নীতিমালা প্রয়োজন। তবে তারা যত্রতত্র কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিরোধিতা করছে, যা তাদের সেবার প্রসারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা মনে করে।