বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার বাসিন্দারা মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় বাইতুশ শরফ জামে মসজিদে আয়োজিত এক সভায় এলাকার সচেতন মানুষ মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মাদক ব্যবসার বিস্তার রোধে স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী পাঁচটি কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সিদ্ধান্তগুলো হলো—মাদকের সঙ্গে জড়িত কারো মৃত্যু হলে তাকে সামাজিকভাবে দাফন করা হবে না, দাফনের কাজে মসজিদের সরঞ্জাম ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, ধর্মীয় ব্যক্তিরা তাদের বাড়িতে খাবার গ্রহণ বা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না, কারবারিদের পরিবারের যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান এলাকাবাসী বর্জন করবে এবং প্রমাণিত মাদক ব্যবসায়ীদের সমাজ থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ মাদকের ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে। ইয়াবা, আইস, হেরোইন ও ফেনসিডিলের মতো মাদকের সহজলভ্যতা তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া মাদকাসক্তি ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ওপর নির্ভর করে মাদক নির্মূল সম্ভব হয়নি। অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশের কারণে অভিযানের সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে জোরারগঞ্জের বাসিন্দাদের এই উদ্যোগকে মাদকের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর ও সাহসী মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক ব্যর্থতা কাটিয়ে মাদক নির্মূলে এই ধরনের সামাজিক দুর্গ গড়ে তোলা জরুরি। যখন কোনো অপরাধী জানবে যে তার কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো সমাজ ও পরিবার সামাজিকভাবে মর্যাদা হারাবে, তখন অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাওয়া সম্ভব। এই সামাজিক বয়কটের চেতনাকে জাতীয় আন্দোলনের রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।