ঢাকাTuesday , 28 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

সিআইএ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: নেপথ্যে রাশিয়ার ইন্ধন?


July 26, 2026 7:20 pm
Link Copied!

ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোটের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বৈঠক ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে সামনে আনা হলেও, নেপথ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলাগুলোতে রাশিয়ার প্রত্যক্ষ ইন্ধনের বিষয়টি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতায় রাশিয়ার ভূমিকা আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার ধরন ও তদন্ত

গত ৩ মার্চ দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশনে হামলা চালায় ইরান। এরপর সিএনএন জানায়, পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সেনাসদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে তেহরানকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে মস্কো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে ড্রোন হামলার নিখুঁত কার্যকারিতা দেখে মার্কিন গোয়েন্দারা নিশ্চিত হতে চাইছেন, এর পেছনে রাশিয়ার কোনো প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে কি না।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেভস্কি জানান, ইরানের এবারের হামলাগুলো আগেকার তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক ও শক্তিশালী। রাশিয়ার মতো ইরানের মহাকাশভিত্তিক উচ্চ সক্ষমতা না থাকায়, নজরদারির জন্য তারা রাশিয়ার সামরিক মানের স্যাটেলাইট বা কারিগরি সহায়তা নিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ব্যর্থ হামলায় ধ্বংস হওয়া শাহেদ-১৩৬ ড্রোনে রাশিয়ার ‘কোমেটা-এম’ অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তি পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল, যদিও রাশিয়া তা অস্বীকার করেছে।

সামরিক কৌশল ও সম্পর্কের সমীকরণ

ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন ও ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে। বিনিময়ে এই কৌশলগত অংশীদারত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক সংকটে ব্যস্ত রেখে নিজেদের শক্তি টিকিয়ে রাখাই এই দুই দেশের মূল লক্ষ্য।

নিকোল গ্রাজেভস্কির মতে, রাশিয়া চায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এককভাবে লড়াই চালিয়ে যাক, কিন্তু দেশটিও যেন পুরোপুরি ধ্বংস না হয়। তাই সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করেই মস্কো তেহরানকে সহায়তা করছে। তবে রাশিয়ার সহায়তাই যে ইরানের সব সক্ষমতার উৎস, তা মানতে নারাজ অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টায় ইরান নিজস্ব বিশাল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছে, যা বর্তমানে তাদের সামরিক শক্তির মূল চালিকাশক্তি।