বাংলাদেশের সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানী পালের একটি রিলস ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া বিতর্ক ও হেনস্তার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ভিডিওটি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়ায় স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন ওই শিক্ষক। বিউটি রানী পালের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকরা ও সংস্কৃতিকর্মীরা পাল্টা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অভিনব প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার, যখন শিক্ষক বিউটি রানী পালের স্কুল প্রাঙ্গণে হাঁটার একটি ভিডিও ক্লিপ ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করা হয়। ভিডিওটিতে কৃত্রিম কণ্ঠ ব্যবহার করে তাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়। এরপর থেকে ওই শিক্ষক স্থানীয় কিছু ব্যক্তির ফেসবুক লাইভ ও মন্তব্যের কারণে নিজেকে কর্মস্থলে অনিরাপদ মনে করছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করবেন।
২০১৬ সাল থেকে শিক্ষকতায় যুক্ত বিউটি রানী পাল পাঠদান ও সৃজনশীল কার্যক্রমের জন্য বেশ জনপ্রিয়। ২০২৬ সালে তিনি সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি বলেন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকদের চিন্তাধারা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে এবং এটি কোনো অপরাধ নয়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সিলেট সফরকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাংবাদিকদের জানান, ভিডিওটিতে কোনো অশ্লীলতা নেই। তিনি গান গাওয়া বা ভিডিও প্রকাশ করাকে অন্যায় মনে করেন না বলে মন্তব্য করেছেন। একই সুরে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ জানান, বিষয়টি তারা অন্যায় হিসেবে দেখছেন না এবং এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই হেনস্তার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন শিক্ষক সমাজ ও সুশীল ব্যক্তিরা। অনেকেই এটিকে ‘ভিউ’ পাওয়ার জন্য তথাকথিত সাংবাদিক ও সাইবার অপরাধীদের কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিষয়টি সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।