যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রযুক্তি জায়ান্ট এনভিডিয়ার আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং দাবি করেছেন, তারা কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই (AGI) অর্জন করে ফেলেছেন। এজিআই প্রযুক্তি খাতের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য, যা অর্জনের পেছনে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর বিনিয়োগ করছে। তবে এজিআই অর্জনের এই মাইলফলক ঘোষণা করার পরপরই জেনসেন হুয়াং একে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এজিআই বলতে আসলে কী বোঝায় বা কোন সূচকের মাধ্যমে এটি অর্জিত হয়েছে বলে ধরা হবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে কোনো সর্বসম্মত সংজ্ঞা নেই। জেনসেন হুয়াংয়ের মতে, অনেক কাজের ক্ষেত্রেই এনভিডিয়া ইতিমধ্যে এজিআই স্তরে পৌঁছে গেছে। তবে এর কোনো সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি মনে করেন, এ ধরনের মাইলফলক নিয়ে বিতর্ক এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিবর্তন নিয়ে হুয়াং বলেন, এআই এখন শুধু সাধারণ কমান্ডের উত্তর দিচ্ছে না, বরং এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন দক্ষতা অর্জন ও নিজেকে উন্নত করার সক্ষমতা দেখাচ্ছে। এনভিডিয়ার মূল লক্ষ্য এখন এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যা উৎপাদনশীল ও কার্যকর কাজ করতে পারে এবং মুনাফা নিশ্চিত করতে পারে। তার মতে, এআই এখন ঠিক এই পর্যায়টিতেই রয়েছে, যে কারণে পুরো প্রযুক্তি খাত এ বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসেও জেনসেন হুয়াং একই ধরনের দাবি করেছিলেন। তবে এজিআইয়ের সংজ্ঞা অস্পষ্ট থাকায় প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন নেতা এটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন। ওপেনএআই থেকে শুরু করে মেটা, গুগল ও মাইক্রোসফটসহ শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এজিআইয়ের নিজস্ব সংজ্ঞা ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা কার্যত একে একটি বিপণন শব্দে পরিণত করেছে। হুয়াংয়ের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত এজিআইয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা প্রতিষ্ঠিত না হচ্ছে, ততক্ষণ এই জাতীয় দাবিগুলো পুরোপুরি অর্থহীন।