যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠস্বর নকলের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার দাবিতে সরব হয়েছেন দেশটির বিশিষ্ট অভিনয়শিল্পীরা। ম্যাট লুকাস, হিউ বোনভিল এবং নিকোলা কফলানসহ ৮০ জনেরও বেশি শিল্পী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে তাদের কণ্ঠের ওপর আইনি মালিকানা নিশ্চিত করার আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। পেশাদার শিল্পীদের কণ্ঠস্বর অরক্ষিত থাকায় এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কণ্ঠ চুরির ঝুঁকি
অডিওবুক বর্ণনাকারী অ্যালিস সকেট এই ক্যাম্পেইনের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একে পুরো শিল্প খাতের জন্য অস্তিত্বের সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, পাবলিক ডোমেনে থাকা মানুষের কণ্ঠস্বর বর্তমানে একেবারেই অরক্ষিত এবং প্রতি সপ্তাহেই কণ্ঠ চুরির ঘটনা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অডিও থেকে এআই ব্যবহার করে দ্রুত কণ্ঠ নকল করা সম্ভব হচ্ছে।
সরকারের অবস্থান
এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডিজিটাল রেপ্লিকা সৃজনশীল শিল্পের জন্য শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, তবে এর ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। সরকার এই ক্ষতিকর প্রভাবগুলো মোকাবিলা করার পাশাপাশি উদ্ভাবনকে সুরক্ষা দিতে একটি পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।
মানবিক সংযোগের গুরুত্ব
অভিনয়শিল্পী শিভন ম্যাকসুইনি জানিয়েছেন, তিনি এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তিত। তার মতে, প্রযুক্তিকে ধ্বংসাত্মক হিসেবে ব্যবহার না করে বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। শ্রোতারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে মানুষের সাথে মানবিক সংযোগকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গি
আইনি সুরক্ষার দাবি উঠলেও, চিকিৎসা বিজ্ঞানে কণ্ঠস্বরের ক্লোনিং বা এআই প্রযুক্তি অনেক ক্ষেত্রে আশির্বাদ হিসেবে কাজ করছে। মোটর নিউরন ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে যারা কথা বলার ক্ষমতা হারিয়েছেন, তারা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুনরায় প্রিয়জনদের সাথে কথা বলতে পারছেন। এছাড়া মৃত ব্যক্তির কণ্ঠ ও প্রতিচ্ছবি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুনর্নির্মাণের উদাহরণও দেখা যাচ্ছে, যা শোকাহত পরিবারের সদস্যদের জন্য সান্ত্বনা নিয়ে আসছে। তবে শিল্পীদের দাবি, ব্যক্তিগত পরিচয় ও অধিকার সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন বর্তমান এআই প্রযুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়।