যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা বারবারার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল জু এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বন্যপ্রাণীর চলাচলের ওপর মানুষের প্রভাব নিয়ে এক নতুন গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বন্যপ্রাণী কেবল রাস্তাঘাট বা অবকাঠামোগত পরিবর্তনের কারণেই নয়, বরং মানুষের শারীরিক উপস্থিতির কারণেও তাদের চলাফেরা এবং বসবাসের স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী অধ্যাপক রুথ অলিভারের মতে, বন্যপ্রাণীর ওপর মানুষের প্রভাব বোঝা কেবল পরিবেশ পরিবর্তনের তথ্যের ওপর নির্ভর করলে পূর্ণাঙ্গ হবে না, এক্ষেত্রে মানুষের উপস্থিতির বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকরা কোভিড-১৯ মহামারীর সময়কার লকডাউনকে একটি বিরল সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন। ২০১৯ এবং ২০২০ সালের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪,৫৮১টি স্তন্যপায়ী ও পাখি প্রজাতির জিপিএস ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়। প্রথমবারের মতো এই গবেষণায় সেলফোনের জিপিএস লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে মানুষের চলাচলের সাথে বন্যপ্রাণীর অভ্যাসের সম্পর্ক যাচাই করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৭ শতাংশ বন্যপ্রাণীর প্রজাতি মানুষের উপস্থিতি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের যৌথ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ৬৭ শতাংশ স্তন্যপায়ী এবং ৬৮ শতাংশ পাখির ক্ষেত্রে মানুষের উপস্থিতি তাদের বসবাসের সীমানা নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে জাতীয় উদ্যান বা কম উন্নয়নমূলক এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বন্যপ্রাণীর ওপর অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।
তবে সব প্রাণী একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় না। উদাহরণস্বরূপ, নেকড়ে মানুষের উপস্থিতির সাথে সাথে তাদের বিচরণ ক্ষেত্র বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সাদা লেজের হরিণ এবং স্যান্ডহিল ক্রেন মানুষের উপস্থিতির প্রতি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে। গবেষকরা এখন এই পরিবর্তনের ফলে বন্যপ্রাণীর টিকে থাকার সক্ষমতা বা ঝুঁকির বিষয়ে আরও গভীর গবেষণা করছেন। এই গবেষণার ফলাফল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য আরও নির্ভুল এবং কার্যকর নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।