বাংলাদেশের সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। রাজধানীর পল্লবীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, এমপি নজরুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। গত ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের দায়ে জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর থেকে এসব অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে।
অভিযোগের বিবরণ
ওবায়দুর রহমানের দাবি, নির্বাচনের আগে থেকেই পল্লবীর এক পরিবারের সাথে এমপির ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং গভীর রাতে ওই পরিবারের তরুণীর সাথে তার গোপন যোগাযোগ ছিল। এই যোগাযোগের জন্য শ্যামনগরের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। ওবায়দুর আরও জানান, এই সম্পর্কের বিষয়ে আপত্তি তোলায় তাকে অর্থের প্রলোভন, সরকারি চাকরি, এপিএস হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং তরুণীর সাথে মুতা বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ওই তরুণীর বাবার ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ পাইয়ে দিতে এমপি তার প্রভাব ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১৪ জুলাই ওবায়দুর রহমানের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২১ জুলাই তিনি পল্লবী থানায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। বর্তমানে ওই মামলার দুজন আসামি কারাগারে রয়েছেন। এই ঘটনার পর শ্যামনগর ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নাগরিক সমাজ মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও এমপির কুশপুত্তলিকা দাহ করার মাধ্যমে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
এমপির বক্তব্য
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।