যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে হওয়া নতুন চুক্তির মাধ্যমে দেশটি থেকে পাওয়া তেল ব্যবহার করে মার্কিন পেট্রোলিয়ামের মজুত বাড়ানো হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের জন্য এটি একটি উপহার। একই সঙ্গে তিনি নিজ দেশের তেলের মজুত হ্রাসের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে থাকা ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের ওপর নজরদারি করার সুযোগ পাবে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২১ আগস্ট পর্যন্ত আমেরিকার মজুতে ২৯০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছিল, যা গত ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে ভেনেজুয়েলার ভেঙে পড়া তেল অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে শুক্রবার এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ঠিক কত দ্রুত সরবরাহ শুরু হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
চুক্তির ধরন ও প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এটি সরাসরি কোনো ক্রয়চুক্তি নয় বরং সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি করপোরেট লেনদেন। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল কোম্পানিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানার অংশ থাকবে এবং দেশটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদন খরচের বিনিময়ে নিশ্চিতভাবে পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে এবং পশ্চিম গোলার্ধে দেশটির প্রভাব বাড়াবে। ট্রাম্পের এই পররাষ্ট্রনীতিকে ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আদলে ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ট্রাম্প একে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি বলে বর্ণনা করেছেন।