অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি এবং জার্মানির গোয়েথে ইউনিভার্সিটি ফ্রাঙ্কফুর্টের গবেষকরা মহাকাশের এক অদ্ভুত অবস্থা বা স্পেসটাইম ক্রিস্টাল কীভাবে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে, তার গাণিতিক সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। এই আবিষ্কারটি আদি মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সাধারণত বিশাল নক্ষত্রের মৃত্যুর ফলে ব্ল্যাক হোলের জন্ম হয়। কিন্তু তত্ত্ব অনুযায়ী, ব্ল্যাক হোলের কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম আকার নেই। স্পেসটাইম যখন একটি নির্দিষ্ট ক্রিস্টাল সদৃশ প্যাটার্নে বিন্যস্ত হয়, তখন শক্তির সামান্য পরিবর্তনেই তা ভেঙে যেতে পারে অথবা ক্ষুদ্র ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে। গবেষকরা প্রথমবারের মতো পেন-পেপার ক্যালকুলেশন বা গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে এই জটিল প্রক্রিয়াটি প্রমাণ করেছেন।
ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির অধ্যাপক ড্যানিয়েল গ্রুমিলার এই অবস্থাকে একটি মধ্যবর্তী পর্যায়ের সাথে তুলনা করেছেন। তার মতে, এটি এমন একটি অস্থিতিশীল বিন্দু যা দুটি ভিন্ন পথে মোড় নিতে পারে। সামান্য শক্তির উপস্থিতিতেই এই স্পেসটাইম ক্রিস্টালটি একটি ব্ল্যাক হোলে রূপান্তরিত হয়।
গবেষকরা এই জটিল সমস্যাটি সমাধানের জন্য একটি ব্যতিক্রমী গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। তারা প্রচলিত ৪টি মাত্রার পরিবর্তে অসীম সংখ্যক মাত্রার ধারণা প্রয়োগ করেন। গবেষক ক্রিস্টিয়ান ইকার জানান, অনেক সময় অসীম মাত্রার হিসাব জটিল সমস্যার সমাধানে সহজ পথ তৈরি করে দেয়। পরবর্তীতে এই ফলাফলকে আমাদের পরিচিত চার মাত্রার মহাবিশ্বের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
এই গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এখন ব্ল্যাক হোল গঠনসহ মহাকাশের এমন অনেক জটিল আচরণ ব্যাখ্যা করতে পারবেন, যা আগে শুধুমাত্র কম্পিউটার সিমুলেশনের ওপর নির্ভর করে করতে হতো। নতুন এই আবিষ্কার মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের হাতে নতুন এক কার্যকর হাতিয়ার তুলে দিল।