বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) কার্যালয়ে রবিবার আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা ও বিশেষজ্ঞরা বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘জ্বালানি নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ: প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসার পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বিদ্যমান শিল্প টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগও তৈরি হবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৪২ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে পিক আওয়ারে দৈনিক ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
লাফার্জহোলসিম সিমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, নতুন বিনিয়োগের আগে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের বাঁচানো জরুরি। গ্যাস সংকটের কারণে দেশি ক্লিংকার উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত ক্লিংকার এখন সস্তা হয়ে পড়েছে, যা দেশীয় শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের শিল্পপার্কগুলো এখন সক্ষমতার মাত্র ৫০ থেকে ৭০ শতাংশে চলছে। সিরামিক খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই সংকটে শিল্প টিকিয়ে রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল অভিযোগ করেন, শিল্পের সংকট তুলে ধরলে ব্যবসায়ীদের ‘শত্রু’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি সমস্যাটিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে সমাধানের তাগিদ দেন। বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ইজাজ হোসেন তাৎক্ষণিক সমাধানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে জোর দেন।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, বর্তমান শিল্প টিকিয়ে রাখতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অর্থহীন। ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিক সমাধান চান যাতে তারা টিকে থাকতে পারেন। আলোচনার প্রেক্ষিতে জ্বালানি সংকট নিরসনে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।