ব্রাজিলের আলবার্ট আইনস্টাইন ইসরায়েলিট হাসপাতাল, গুয়ারুলহোস ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা এক দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দাঁতের মাড়ির গুরুতর রোগ পেরিওডোনটাইটিসের নতুন এক কার্যকর চিকিৎসা খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ওমেগা-৩ এবং স্বল্পমাত্রার অ্যাসপিরিনের সংমিশ্রণ দাঁতের মাড়ির চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রায় সমপরিমাণ সাফল্য দেখাতে সক্ষম।
গবেষণাটি ১ বছর ধরে ১০৯ জন রোগীর ওপর পরিচালনা করা হয়। পেরিওডোনটাইটিস এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ, যেখানে মাড়ির নিচে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে দাঁত ও মাড়ির টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে হাড় ক্ষয় হতে পারে এবং দাঁত ঝরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের চারটি আলাদা গ্রুপে ভাগ করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রথম গ্রুপকে সাধারণ দাঁতের পরিষ্কারকরণ বা স্কেলিং এবং প্লেসিবো দেওয়া হয়। দ্বিতীয় গ্রুপকে মেট্রোনিডাজল ও অ্যামোক্সিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। তৃতীয় গ্রুপকে ছয় মাস ওমেগা-৩ এবং স্বল্পমাত্রার অ্যাসপিরিন দেওয়া হয়। চতুর্থ গ্রুপকে অ্যান্টিবায়োটিকের পাশাপাশি ওমেগা-৩ ও অ্যাসপিরিন উভয়ই দেওয়া হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকারী রোগীদের প্রায় ৫৮ শতাংশ চিকিৎসার লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। অন্যদিকে, ওমেগা-৩ ও অ্যাসপিরিন গ্রহণকারী গ্রুপে প্রায় ৫৭.৭ শতাংশ রোগী একই লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে ওমেগা-৩ ও অ্যাসপিরিন ব্যবহারে বাড়তি কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়নি।
গবেষক নিদিয়া ক্রিস্টিনা কাস্ত্রো দস সান্তোস জানান, অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে এটি বেশ সম্ভাবনাময় একটি পদ্ধতি। বিশেষ করে যেসব রোগীর অ্যান্টিবায়োটিক নিতে সমস্যা বা অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য এই চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সমস্যাটি এখন বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে মাড়ির রোগ সারানো গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ভূমিকা রাখবে। তবে এটিকে এখনই অ্যান্টিবায়োটিকের শতভাগ বিকল্প হিসেবে না দেখে আরও বিস্তারিত গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন গবেষকরা।