যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের স্প্রিংফিল্ডে অভিবাসন মর্যাদা বা টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) হারিয়ে পিয়ের দামাস বেল নামক এক হাইতীয় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিবাসন নীতির জেরে সৃষ্ট চাপের কারণে ওই তরুণ আত্মহত্যা করেছেন। ২০ বছর বয়সী এই তরুণ সোমবার তার গাড়ি মহাসড়কের পাশে রেখে চলন্ত ট্রাফিকের সামনে ঝাঁপ দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ওহাইও স্টেট হাইওয়ে পেট্রোল বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
পিয়ের দামাস বেলের বাবা পিয়ের রোনাল বেল জানান, সরকারি নির্দেশনায় পায়ে ট্র্যাকিং ডিভাইস বা অ্যাঙ্কেল মনিটর পরতে বাধ্য হওয়ার পর থেকে তার ছেলে মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ছিল। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট হাইতির টিপিএস সুবিধা বাতিলের আদেশ বহাল রাখার পর থেকে দেশটির অনেক অভিবাসীকে এরকম ডিভাইস পরতে বাধ্য করা হচ্ছে। বেলের পরিবার এবং তাদের পারিবারিক যাজক কার্ল রুবি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিনের অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েই সে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
ওহাইওর গভর্নর মাইক ডুইন বেলের মৃত্যুকে একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বেলের স্বপ্ন ছিল এই দেশে কিছু করার। সে জুনিয়র আরওটিসি-তে যুক্ত ছিল এবং তার সহপাঠীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। গভর্নর প্রশ্ন তুলেছেন, এভাবে অভিবাসীদের ডিটেনশনে রাখা বা নজরদারিতে রাখার বিষয়টি কতটা মানবিক।
এর আগে এক মাস আগে পিয়ের বেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন, তিনি পড়াশোনা করতে এসেছেন, অপরাধ করতে নয়। পায়ে জিপিএস মনিটর নিয়ে চলাফেরা করা তার জন্য চরম অপমানজনক ছিল। সে লিখেছিল, এই ডিভাইসের কারণে সে সহপাঠীদের সামনে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না এবং কলেজ ক্রীড়ায় অংশ নিতেও বাধা পাচ্ছে।
রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বেলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট স্যু এডওয়ার্ডস জানিয়েছেন, বেল একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং ক্যাম্পাসে খেলাধুলায় বেশ সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা মৃত্যুর কারণ বা কোনো ব্যক্তিগত দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না।