বাংলাদেশের ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদী মন্তব্য করেছেন যে, মক্কা চুক্তি মূলত আমেরিকার কৌশলগত ব্যর্থতার মূর্ত প্রতীক। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এই বক্তব্য দেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় এ অঞ্চলের দেশগুলোকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিতে এবং অস্ত্র কিনতে উৎসাহিত করেছে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে। ইরানের রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ব্যয় ও উপস্থিতিকে তিনি ইরানকে কোণঠাসা করার কৌশলের অংশ হিসেবে দেখেন।
সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান তাদের বন্ধু দেশ এবং সৌদি আরব একটি ইসলামিক রাষ্ট্র। তারা সৌদি আরবকে চ্যালেঞ্জ করতে আগ্রহী নন। তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যুক্তরাষ্ট্র কি বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব বা জর্ডানের মতো দেশগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছে? তাদের আকাশসীমা দিয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, এই দেশগুলোর নিরাপত্তায় ওয়াশিংটন ব্যর্থ।
মক্কা চুক্তিতে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত জানান, তারা এমন কোনো প্রস্তাব পেলে তা পর্যালোচনা করবেন। তিনি দাবি করেন, এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রস্তাব ইরান দিলেও আরব দেশগুলো মার্কিন নিরাপত্তার ওপর নির্ভরতার কারণে তা গ্রহণ করেনি।
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ নীতিতে ইরান চিন্তিত নয়। তাদের বিশ্বাস, বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ ও ভারসাম্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবে এবং মক্কা চুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের মাঝে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।