যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগোতে অবস্থিত নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিনের গবেষকরা জানিয়েছেন, তরুণ বয়সে বসবাসের পরিবেশ কয়েক দশক পরের হৃদস্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ২০ বছর বয়সের দিকে যারা প্রতিকূল সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতিতে বসবাস করেন, পরবর্তী জীবনে তাদের করোনারি ধমনীতে ক্যালসিফিকেশন বা রক্তনালীতে খনিজ জমার ঝুঁকি বেশি থাকে। হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে এই ক্যালসিফিকেশনকে বিবেচনা করা হয়।
গবেষক দলের প্রধান এবং নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের অধ্যাপক লিফাং হাউ জানিয়েছেন, এই গবেষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সামাজিক ও পরিবেশগত বিভিন্ন উপাদানের সমষ্টিগত প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থ-সামাজিক অবস্থা, খাবারের সহজলভ্যতা, শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ এবং স্থানীয় অপরাধের হার। অতীতের গবেষণায় কেবল ব্যক্তিগত জীবনধারা বা আয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও, বর্তমান গবেষণায় এলাকাভিত্তিক পরিস্থিতির প্রভাবকে সামনে আনা হয়েছে।
গবেষণা পদ্ধতি
গবেষকরা ‘কার্ডিয়া’ (CARDIA) নামক একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এতে তরুণ বয়সে পরিবেশগত ও আচরণগত ফ্যাক্টরগুলো কীভাবে হৃদরোগের কারণ হয়, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। মেশিন লার্নিং ও উন্নত পরিসংখ্যান ব্যবহার করে দেখা গেছে, যেসব অংশগ্রহণকারী তরুণ বয়সে অস্বাস্থ্যকর সামাজিক পরিবেশে ছিলেন, মধ্যবয়সে তাদের করোনারি আর্টারি ক্যালসিফিকেশন (CAC) হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই সম্পর্কটি আরও শক্তিশালী ছিল।
ভবিষ্যৎ করণীয়
গবেষক দলের মতে, বসবাসের পরিবেশ কেবল একটি বিমূর্ত ধারণা নয়, বরং এটি শরীরের ভেতর স্থায়ী জৈবিক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। এই ফলাফলের ভিত্তিতে হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য নতুন ক্লিনিক্যাল কৌশল ও সামাজিক নীতি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এখন গবেষকরা হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিয়রের মতো অন্যান্য হৃদরোগের সঙ্গে এই পরিবেশগত প্রভাবের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া কোন নির্দিষ্ট সামাজিক উপাদানগুলো পরিবর্তন করে ঝুঁকি কমানো যায়, তাও চিহ্নিত করার চেষ্টা করবেন তারা।