যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে একজন নারী শূকরের জিন-এডিটেড কিডনি নিয়ে নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বেঁচে আছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বড় মাইলফলক। বায়োটেক কোম্পানি ই-জেনেসিসের তথ্যমতে, গত বছরের ২২ নভেম্বর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা ২৮৫ দিন ধরে কার্যকর রয়েছে। এর আগের রেকর্ডটি ছিল টিম অ্যান্ড্রুস নামক এক ব্যক্তির, যিনি ২৭১ দিন শূকরের কিডনি নিয়ে বেঁচে ছিলেন।
কিডনি সংকটের সমাধান
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৫ হাজারের বেশি মানুষ কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন, অথচ দাতার অভাবে সেখানে বছরে ২৮ হাজারের কম কিডনি প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়। কিডনি অকেজো হওয়া রোগীদের দীর্ঘ সময় ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহুল। ই-জেনেসিসের প্রধান নির্বাহী মাইক কার্টিস জানান, কৃত্রিম উপায়ে জিন এডিটিংয়ের (ক্রিসপার প্রযুক্তি) মাধ্যমে শূকরের কিডনিকে মানুষের শরীরের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে, যাতে তাৎক্ষণিক কোনো জটিলতা বা অঙ্গ প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি না থাকে।
চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ
ই-জেনেসিসের তথ্যানুযায়ী, এক্সপান্ডেড অ্যাক্সেস নামক বিশেষ নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার আওতায় এই পর্যন্ত পাঁচজন রোগী শূকরের কিডনি পেয়েছেন। এর আগে টিম অ্যান্ড্রুসের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল যে, ডায়ালাইসিসের তুলনায় শূকরের কিডনি রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটিয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে রক্ত জমাট বাঁধার মতো কিছু ঝুঁকি এখনো রয়েছে। ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে অ্যান্ড্রুসের অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই সাফল্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ই-জেনেসিসকে ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৩৩ জন রোগীর ওপর আনুষ্ঠানিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে এই ট্রায়াল ২০২৭ সালের আগে শুরু হবে না। কোম্পানিটির এখন লক্ষ্য হলো, কোনো রোগীর শরীরে অন্তত এক বছর শূকরের কিডনি কার্যকর রাখা। প্রতিস্থাপিত অঙ্গের কার্যকারিতা বজায় রাখতে বর্তমানে রোগীর নিয়মিত ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমনকারী ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে, যার সঠিক মাত্রা নিয়ে চিকিৎসকরা আরও গবেষণা করছেন।